টলিউডে চরম অস্থিরতা! ইমপা-তে ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযানে তুঙ্গে সংঘাত, পদত্যাগ করবেন পিয়া সেনগুপ্ত?

বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের আঁচ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল টলিউডের অন্দরে। সোমবার নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তাল প্রযোজক সংগঠন ‘ইমপা’ (EIMPA)। সংগঠনের সভানেত্রী পিয়া সেনগুপ্তের পদত্যাগ এবং সংগঠনকে ‘তৃণমূলমুক্ত’ করার দাবিতে আড়াআড়ি বিভক্ত স্টুডিও পাড়া। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ইমপা অফিসের সামনে মোতায়েন করতে হয়েছে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী।
সংঘাতের সূত্রপাত ও ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযান:
বুধবার দিনভর টানটান উত্তেজনার পর বিরোধী পক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র গঙ্গাজল ছিটিয়ে প্রতীকী ‘শুদ্ধিকরণ’ নয়, পিয়া সেনগুপ্তের বিদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বিরোধী শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ তথা হল-মালিক শতদীপ সাহা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “আমরা বিনোদন জগতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে চাই। ইমপা-কে তৃণমূল কংগ্রেসমুক্ত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
পাল্টা যুক্তি পিয়া সেনগুপ্তের:
অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন পিয়া সেনগুপ্ত। বিরোধী পক্ষ ‘বহিরাগত’ নিয়ে ভোট করানোর যে দাবি তুলেছে, তার জবাবে পিয়া বলেন, “কলকাতা হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণে নির্বাচন হয়েছিল। আমাদের কাছে সমস্ত ফুটেজ ও প্রমাণ রয়েছে।” উল্টে তাঁর অভিযোগ, মঙ্গলবার থেকে তাঁকে মানসিকভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে এবং অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছে। গায়ের জোরে পদত্যাগ করানোর চেষ্টা চলছে বলেও সরব হয়েছেন তিনি।
আদালতের হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা:
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় ব্যাঙ্কশাল আদালতের দ্বারস্থ হয় ইমপা কর্তৃপক্ষ। আদালতের নির্দেশে ইমপা অফিস ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে। অশান্তি রুখতে বৌবাজার থানার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী এখন টহল দিচ্ছে এলাকায়। ইমপা-র সদস্য শরৎ মুখোপাধ্যায়কে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
টাকা নিয়ে বিবাদ ও ‘নিষেধাজ্ঞা’ সংস্কৃতি:
পরিচালক জয়ব্রত দাসের ছবি মুক্তির জন্য ৮ লক্ষ টাকা চাওয়ার যে অভিযোগ পিয়া সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে উঠেছিল, তারও জবাব দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, ছবির কলাকুশলীদের বকেয়া টাকা নিশ্চিত করতেই ফেডারেশনের নির্দেশে ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে শতদীপ সাহার দাবি, আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের ‘নৈতিক জয়’ হয়েছে এবং ইন্ডাস্ট্রিতে আর কোনও রাজনৈতিক ‘ব্যান কালচার’ বা নিষেধাজ্ঞা সংস্কৃতি চলতে দেওয়া হবে না।
ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
আগামী শুক্রবার উভয় পক্ষের ১২ জন করে মোট ২৪ জন প্রতিনিধি নিয়ে একটি মেগা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানেই ঠিক হবে ইমপা-র ভবিষ্যৎ। পিয়া সেনগুপ্ত কি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করবেন? নাকি আইনি লড়াই জারি রাখবেন? শতদীপ সাহা রসিকতার সুরে বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মতো উনিও তো গদি ছাড়তে চাইছেন না! এখনই কী করে বলি নতুন সভাপতি কে হবেন?”
রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এই অস্থিরতা এখন টক অফ দ্য টাউন। টলিউডের প্রশাসনিক ক্ষমতা কার হাতে থাকে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা ইন্ডাস্ট্রি।