মেধাবী ছাত্র থেকে শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী, কেন রক্তে ভাসতে হলো শান্ত স্বভাবের চন্দ্রনাথকে? চক্রান্তের গন্ধে উত্তাল রাজ্য!

মঙ্গলবার রাতের অন্ধকার চিরে আসা কয়েক রাউন্ড গুলি শুধু একজন মানুষের প্রাণ কাড়েনি, বরং নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক ভিত। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের আকস্মিক মৃত্যুতে এখন রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে মধ্যমগ্রাম থেকে চণ্ডীপুর। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে করা সেই এলোপাথাড়ি গুলির ক্ষত এখন বিচার চাইছে পাড়া-প্রতিবেশীদের চোখে।

ঝড় উঠেছে চণ্ডীপুরের নিভৃত ভিটেয়
পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের ভূমিপুত্র ছিলেন চন্দ্রনাথ। বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর চাউর হতেই থমথমে হয়ে যায় গোটা গ্রাম। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে কার্যত পাথর হয়ে গেছেন বৃদ্ধা মা। পাড়া-প্রতিবেশীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। বাড়ির সামনে ভিড় জমানো মানুষের একটাই প্রশ্ন— “কেন খুন হতে হলো এত ভালো একটা ছেলেকে?”

মেধাবী ছাত্র থেকে রাজনীতির আঙিনা
কেমন ছিলেন চন্দ্রনাথ? তাঁর ছোটবেলার বন্ধুদের কথায়, চন্দ্রনাথ ছিলেন আগাগোড়া শান্ত এবং অত্যন্ত মেধাবী। ২০০০ সালের মাধ্যমিকে ৬টি বিষয়ে লেটার নিয়ে নজর কেড়েছিলেন তিনি। বন্ধুদের স্মৃতিতে আজও অমলিন সেই হাসিখুশি যুবক। এক বন্ধু আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “ওর মতো ছেলে হয় না। ছোট থেকেই সবার বিপদে পাশে দাঁড়াত। কথা বলা বা ব্যবহারে কোনোদিন কর্কশ ভাব ছিল না ওর।”

রাজনীতির রং বদলই কি কাল হলো?
চাকরি সূত্রে গ্রামের বাইরে থাকলেও নাড়ির টান ভোলেননি চন্দ্রনাথ। এক সময় বন্ধুদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস করতেন তিনি। পরবর্তীতে যোগ দেন বিজেপি-তে এবং শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য সহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। চন্দ্রনাথের বন্ধুদের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নয়, বরং তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি করার ‘অপরাধেই’ তাঁকে এই নির্মম পরিণতির শিকার হতে হয়েছে।

এক বন্ধু দাবি করেন, “কাউকে কোনোদিন চড় পর্যন্ত মারেনি চন্দ্রনাথ। কারোর সঙ্গে কোনো অশান্তি ছিল না। এমন ছেলেকে যারা চক্রান্ত করে মারল, তাদের কঠোর শাস্তি চাই।”

তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি
বুধবার রাতেই মধ্যমগ্রামের রাস্তায় বাইকে চড়ে আসা দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আজই তাঁর মরদেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পেশাদার শার্প শ্যুটারদের হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে রাজ্য রাজনীতিতে এই ঘটনা যে বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, এই হাই-প্রোফাইল খুনের রহস্য উদঘাটন করতে প্রশাসন কতটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।