১৮ হাজার থেকে একলাফে ৬৫ হাজার! অষ্টম পে কমিশন নিয়ে বিরাট আপডেট, সরকারি কর্মীদের জন্য কি তবে খুশির জোয়ার?

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সংকেত মিলছে। অষ্টম পে কমিশন (8th Pay Commission) গঠনের তোড়জোড়ের মধ্যেই বেতন এবং ভাতা নিয়ে এবার বড়সড় দাবি পেশ করল কর্মচারী সংগঠনগুলো। মঙ্গলবার পুনেতে মহারাষ্ট্র ওল্ড পেনশন অর্গানাইজেশন-এর প্রতিনিধিরা অষ্টম পে কমিশনের চেয়ারপারসন রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। সেই বৈঠকেই ন্যূনতম বেতন কয়েক গুণ বাড়ানোসহ একগুচ্ছ বিস্ফোরক দাবি জানানো হয়েছে।
বেতন কাঠামোয় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দাবি
বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের এন্ট্রি-লেভেল বা সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা। কর্মচারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এই বেতন এক ধাক্কায় বাড়িয়ে ৬৫,০০০ টাকা করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, সপ্তম পে কমিশনের ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বাড়িয়ে ৩.৮ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদি এই দাবি মেনে নেওয়া হয়, তবে সরকারি কর্মীদের বেতনে অবিশ্বাস্য রকমের বৃদ্ধি ঘটবে।
সংসার খরচ ও ডিএ (DA) নিয়ে নতুন পরিকল্পনা
কর্মচারীদের দাবি, বর্তমানে পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৩ জন ধরা হলেও মূল্যবৃদ্ধির বাজারে তা ৫ জন (কনজাম্পশন ইউনিট) ধরে বেতন নির্ধারণ করা উচিত। এছাড়াও:
প্রতিবার ডিএ রিভিশনে অন্তত ৪ শতাংশ বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।
ডিএ ৫০ শতাংশে পৌঁছালে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
শহরভেদে এইচআরএ (HRA) ১২%, ২৪% এবং ৩৬% করার দাবি জানানো হয়েছে।
যাতায়াত ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট
মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখে বর্তমান যাতায়াত ভাতা ২.৫ গুণ বাড়ানো এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও সংশোধিত বেসিক পে পরবর্তী ১,০০০ টাকার গুণিতকে রাউন্ড-অফ করার সুবিধাজনক প্রস্তাবও রয়েছে এই তালিকায়।
পুরনো পেনশন স্কিম (OPS) ও বিশেষ ভাতা
জাতীয় পেনশন সিস্টেমের (NPS) আওতায় থাকা প্রায় ৮৫ লক্ষ কর্মচারীর জন্য পুরনো পেনশন স্কিম (OPS) ফিরিয়ে আনার দাবিটি আবারও অগ্রাধিকার পেয়েছে। শিক্ষকদের জন্য ১০, ২০ ও ৩০ বছরের স্পেশাল ক্যারিয়ার প্রগ্রেশন স্কিম এবং দুর্গম বা নকশাল অধ্যুষিত অঞ্চলে কর্মরত কর্মীদের ইনসেন্টিভ ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির জন্য কমিশনের কাছে দরবার করা হয়েছে।
অষ্টম পে কমিশনের চেয়ারপারসন এই দাবিগুলো কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশের কোটি কোটি সরকারি কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার।