“ফাঁসি নয়, জেলের অন্ধকারে পচে মরুক খুনিরা!” নিথর ছেলের সামনে দাঁড়িয়ে ঘাতকদের অভিশাপ চন্দ্রনাথের মায়ের!

“আমি একজন মা, তাই ওদের ফাঁসি চাই না। ওরা সারাজীবন জেলের অন্ধকারে পচে মরুক, ঘাতকদের জন্য এটাই আমার প্রার্থনা।” বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি দেবীর এই আর্তনাদ এখন বাংলার রাজনীতির আকাশ-বাতাস ভারী করে তুলেছে। মেজ ছেলেকে হারানোর শোকে মুহ্যমান মা যখন বিচার চাইছেন, তখন তাঁর আঙুল সরাসরি রাজ্যের বিদায়ী শাসকদলের দিকে।

বুলেট বিঁধেছিল হৃদপিণ্ডে, টিভির পর্দায় প্রথম হাহাকার
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে চালানো দুটি ঘাতক বুলেট সরাসরি চন্দ্রনাথের বুকের বাঁ দিকে অর্থাৎ হৃদপিণ্ড বিদীর্ণ করে দিয়েছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সুযোগটুকুও মেলেনি। পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে চন্দ্রনাথের বাড়িতে তখন চলছিল রাতের খাওয়া-দাওয়ার প্রস্তুতি। হঠাৎই নিউজ চ্যানেলের ব্রেকিং নিউজে চন্দ্রনাথের নিথর দেহ দেখে আঁতকে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা। এক আত্মীয়র কথায়, “বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না নিজের চোখকে। পাড়া-প্রতিবেশীরা রাতেই গাড়ি বের করে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।”

“মমতাকে হারানোর মাসুল দিতে হলো!”
ছেলের মৃত্যুর জন্য সরাসরি রাজনৈতিক উস্কানিকেই দায়ী করেছেন হাসিরানি দেবী। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনের ফল বেরনোর পর থেকেই তৃণমূলের নেতারা বলছিলেন ‘দিল্লির বাবারা’ বাঁচাতে আসবে না। আজ ওরা সত্যিই আমার ছেলেকে কেড়ে নিল। শুভেন্দু বাবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পর থেকেই আমাদের পরিবার ওদের টার্গেটে ছিল। এটা কোনো সাধারণ খুন নয়, এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।”

শুভেন্দুকে চরম বার্তা দিতেই কি এই অপারেশন?
এই ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে রণংদেহী মেজাজে সরব হয়েছেন বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী। তাঁর দাবি, নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। কৌস্তভের সাফ কথা, “চন্দ্রনাথকে খুন করে আসলে শুভেন্দু অধিকারীকে একটা ভয়ংকর বার্তা দিতে চাইছে ওরা। কার্যত বুঝিয়ে দিতে চাইছে, ওর কাছের মানুষদের ওপর ওরা কতটা নৃশংস হতে পারে।”

রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে এই হত্যাকাণ্ড এখন কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং শাসক-বিরোধী দ্বৈরথের এক রক্তাক্ত দলিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।