ভোটে হেরেও ‘হিল্লে’ হল TMC-র শিবশঙ্করের, গুরুদায়িত্ব দিলেন ভিভিএস লক্ষ্মণ

রাজনীতির পিচে লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও ক্রিকেটের বাইশ গজে সপাটে ছক্কা হাঁকালেন বাংলার প্রাক্তন পেসার শিবশঙ্কর পাল। তুফানগঞ্জের নির্বাচনী লড়াইয়ে তৃণমূলের প্রতীকে লড়ে হেরে যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বড়সড় ‘ব্রেক’ পেলেন তিনি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) বয়সভিত্তিক ন্যাশনাল ক্যাম্পে বোলিং কোচের দায়িত্ব পেলেন বাংলার এই প্রাক্তন ক্রিকেটার।

হারের গ্লানি মুছে নতুন শুরু উত্তরবঙ্গের তুফানগঞ্জ থেকে এবার তৃণমূলের বাজি ছিলেন এই প্রাক্তন পেসার। তবে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি তিনি। বিজেপি প্রার্থী মালতী রাভা রায়ের কাছে ২৬,৪৫৭ ভোটে পরাজিত হন শিবশঙ্কর। প্রাপ্ত ভোট ৯৬,০৬৮ হলেও গতবারের জয়ী মালতী রাভার গড় ভাঙা সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক মহলে তৃণমূলের এই ভরাডুবির মাঝেই ক্রিকেট ময়দান থেকে এল সুখবর।

ভিভিএস লক্ষ্মণের তত্ত্বাবধানে জয়পুর মিশন বিসিসিআই-এর ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির (NCA) প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণের অধীনে কাজ করবেন শিবশঙ্কর। রাজস্থানের জয়পুরে অনুষ্ঠিত হতে চলা অনূর্ধ্ব-১৬ পুরুষদের ‘এলিট ক্যাম্প’-এর বোলিং কোচ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে তাঁকে। আগামী ১১ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত চলবে এই প্রশিক্ষণ শিবির। দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিবশঙ্কর ফেসবুকে লিখেছেন, “নতুন দায়িত্ব, নতুন শুরু, একই রকম খিদে।” ১০ মের মধ্যেই তাঁকে জয়পুরে রিপোর্ট করতে হবে।

দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও বাংলার ‘ম্যাকো’ এক সময় ভারতের ‘এ’ দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন শিবশঙ্কর পাল। ২০০৪-০৫ সালের ঐতিহাসিক অস্ট্রেলিয়া সফরের দলেও ছিলেন তিনি। যদিও নীল জার্সিতে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার স্বপ্ন পূর্ণ হয়নি। তবে কোচিং ক্যারিয়ারে তাঁর অভিজ্ঞতা দীর্ঘ। এর আগে মিজোরামের অনূর্ধ্ব-২৩ দল এবং বাংলার মহিলা দলের সফল কোচিং করিয়েছেন তিনি। গত মরসুমেও তিনি ছিলেন বাংলার সিনিয়র দলের সহকারী কোচ। এমনকি সিএবি-র (CAB) আসন্ন কোচ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতেও আবেদন করেছেন তিনি।

তুফানগঞ্জের মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার বিধায়ক হয়ে বিধানসভায় পৌঁছাতে না পারলেও, নিজের জন্মভিটে তুফানগঞ্জের সাধারণ মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। শিবশঙ্করের মতে, রাজনীতি তাঁর কাছে সেবার মাধ্যম, কিন্তু ক্রিকেট তাঁর অন্তরাত্মা। জয়পুরের ক্যাম্প শেষ করে পুনরায় বাংলার ক্রিকেটের উন্নতিতে মন দিতে চান তিনি।

বঙ্গ রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আবহে শিবশঙ্করের এই নতুন জয়যাত্রা নিশ্চিতভাবেই এক বড় বার্তা দিচ্ছে—মাঠ বদলালেও লড়াই থামিয়ে রাখার পাত্র নন বাংলার এই পোড়খাওয়া পেসার।