১৫ বছর পর ফের পরিবর্তন! গেরুয়া ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ল জোড়াফুল, হারের ময়নাতদন্তে খোদ তৃণমূল নেতারাই

বাংলায় সমাপ্ত হলো এক দীর্ঘ অধ্যায়। ১৫ বছর পর নবান্নের দখল নিল বিজেপি। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গেরুয়া শিবির যখন জয়ের উৎসবে মত্ত, তখন তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়েছে হারের চুলচেরা বিশ্লেষণ। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় এবং ২০ জন হেভিওয়েট মন্ত্রীর ধরাশায়ী হওয়া— সব মিলিয়ে এক চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে ঘাসফুল শিবির।
শুভেন্দুর কাছে ফের ধরাশায়ী মমতা
নন্দীগ্রামের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটল এবার খোদ মমতার খাসতালুক ভবানীপুরে। শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হলেন তৃণমূল নেত্রী। শুধু তাই নয়, অরূপ বিশ্বাস, সুজিত বসু, ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে উদয়ন গুহ— গেরুয়া ঝড়ে কুপোকাত হয়েছেন বিদায়ী মন্ত্রিসভার অন্তত ২০ জন সদস্য। বিশেষ করে নিয়োগ দুর্নীতি ও রেশন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত নেতাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন ভোটাররা।
আইপ্যাক-নির্ভরতা কি কাল হলো?
তৃণমূলের এই ভরাডুবির জন্য অনেকেই কাঠগড়ায় তুলছেন ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-কে। ‘ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন’ অনুষ্ঠানে এসে খোদ তৃণমূল প্রতিনিধি প্রদীপ্ত মুখোপাধ্যায় বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলনের ওপর ভর করে। পরে আইপ্যাকের মাধ্যমে তাকে সাংগঠনিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়। প্রশ্ন উঠছে, পেশাদার এজেন্সির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই কি দলের জনবিচ্ছিন্নতার কারণ?” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, মদন মিত্রের তোলা ‘টাকা নিয়ে টিকিট’ দেওয়ার অভিযোগকে দল সম্ভবত গুরুত্ব দেয়নি।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া
জয়ের পর বিজেপির প্রতিনিধি দেবজিৎ সরকার বলেন, “এই জয় তাঁদের, যাঁরা বছরের পর বছর তৃণমূলের অত্যাচার সহ্য করেছেন। এ জয় শুধু বিজেপি কর্মীদের নয়, এ জয় গণতন্ত্রের।”
বিদ্রোহী সুর ছিল আগেই
আইপ্যাকের খবরদারি নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ ছিল দীর্ঘদিনের। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মেজাজ হারিয়ে বলেছিলেন, “যাঁরা নাম গুঁজে গুঁজে প্রার্থী করেছিল, সেই আইপ্যাকের লোকরা এখন কোথায়? রাস্তায় তো আমাদেরই খাটতে হচ্ছে।” এমনকি মদন মিত্রও ‘আনাড়ি টাকা-পয়সার লেনদেন’ নিয়ে সরব হয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাঝখানে কিছুটা দূরত্ব তৈরির ইঙ্গিত দিলেও পরে ফের আইপ্যাকের ওপর আস্থা রাখেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবীণ নেতাদের সেই আশঙ্কাই আজ অক্ষরে অক্ষরে সত্যি হলো।