ভবানীপুরে জয়ের আসল কারিগর কারা? হারের পর মমতাকে নিয়ে কী বড় ভবিষ্যদ্বাণী করলেন শুভেন্দু?

ভবানীপুরের মহারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর বাংলার রাজনীতির ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু অধিকারীর নিশানায় এখন ভোটের পাটিগণিত। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল থেকে জয়ের শংসাপত্র হাতে নিয়ে বেরিয়েই এক বিস্ফোরক দাবি করলেন তিনি। তাঁর মতে, ভবানীপুরে বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে রয়েছে বামপন্থীদের একটি বড় অংশের সমর্থন।
বামেদের ভোট রাম-এ? শুভেন্দুর কৃতজ্ঞতা
ভোটের অঙ্ক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, ভবানীপুর কেন্দ্রে বাম শিবিরের যে প্রায় ১৪ হাজার ভোট ছিল, তার সিংহভাগই এবার বিজেপির বাক্সে এসেছে। তাঁর দাবি, “কমপক্ষে ১০ হাজার বাম ভোট আমাদের দিকে এসেছে। আমি সেই সমস্ত বাম সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যাঁরা পরিবর্তনের লক্ষ্যে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।” শুধু বাম নয়, গুজরাটি, শিখ ও জৈন সম্প্রদায়ের ভোটারদেরও তাঁর জয়ের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
দুই কেন্দ্রে জয়: শুভেন্দুর ডাবল ধামাকা
২০ দফা গণনার শেষে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫,১০৫ ভোটে পরাস্ত করেছেন শুভেন্দু। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামেও নিজের আধিপত্য বজায় রেখে পবিত্র করকে ৯,৯৬৫ ভোটে হারিয়েছেন তিনি। জোড়া জয়ে বাংলার রাজনীতিতে নিজের অবস্থান যে আরও কয়েক গুণ মজবুত করলেন শুভেন্দু, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই রাজনৈতিক মহলে।
ধর্মীয় মেরুকরণ ও ভোটের সমীকরণ
সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে এদিন অত্যন্ত চাঁছাছোলা ভাষায় সরব হন শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট জানান, নন্দীগ্রামে ৬৬ হাজার এবং ভবানীপুরে ৩৫ হাজার মুসলিম ভোটারের সমর্থন তিনি পাননি। তাঁর কথায়, “নির্দিষ্ট কিছু ওয়ার্ডে মুসলিম ভোট একতরফাভাবে প্রতিপক্ষের দিকে গেলেও হিন্দু, শিখ ও জৈন সমাজের এককাট্টা সমর্থনেই এই জয় সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, চেতলাসহ বিভিন্ন এলাকার বাঙালি হিন্দু ভোটাররা দুহাত ভরে বিজেপিকে আশীর্বাদ করেছেন।
মমতাকে কড়া চ্যালেঞ্জ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হারকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন শুভেন্দু। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “একুশে নন্দীগ্রামের পর ছাব্বিশে ভবানীপুরেও তিনি পরাজিত হলেন। এই ফলাফল বাংলার মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।”
সব মিলিয়ে, বামেদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শুভেন্দু যে নতুন এক রাজনৈতিক জল্পনা উসকে দিলেন, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, বাম ভোট বিজেপির ঝুলিতে যাওয়ার এই তত্ত্ব আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কোন দিকে মোড় নেয়।