মোদীর জমানায় কি ভাগ্য বদলাচ্ছে বাংলার? ৩০০০ টাকা থেকে UCC—প্রথম ১০০ দিনের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ ফাঁস!

১৫ বছরের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মসনদে এখন পরিবর্তনের হাওয়া। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই এবার নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ক্ষমতায় বসার আগেই বাংলার জন্য নিজেদের কর্মপরিকল্পনা বা ‘রোডম্যাপ’ চূড়ান্ত করে ফেলেছে বিজেপি নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে দলের শীর্ষ নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রথম দিন থেকেই উন্নয়নের ঝোড়ো ব্যাটিং শুরু করবে গেরুয়া শিবির।
প্রথম ক্যাবিনেটেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ ও চাকরি
বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই বাংলায় ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালু করা হবে। পাশাপাশি যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান এবং মহিলাদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বেকার যুবক-যুবতীরা যাতে কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত আর্থিক সংকটে না পড়েন, তার জন্য মাসে ৩,০০০ টাকা বেকার ভাতার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
মহিলাদের জন্য ৩,০০০ টাকা ও ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’
রাজ্যের মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নতুন সরকারের। এছাড়া নারীদের সুরক্ষায় ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ নামে বিশেষ বাহিনী গঠন এবং সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রসূতিদের উন্নত চিকিৎসা ও ক্যানসার প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকাকরণের বিষয়টিতেও জোর দেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মীদের পোয়াবারো: সপ্তম বেতন কমিশন
রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ঘোষণা করেছে বিজেপি। ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা এবং ৬ মাসের মধ্যে অষ্টম বেতন কমিশনের কাজ শুরু করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন।
অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর ‘UCC’ ও সীমান্তে কড়াকড়ি
আইনশৃঙ্খলায় আমূল পরিবর্তন আনতে ছয় মাসের মধ্যে রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ‘ইউসিসি’ (UCC) চালুর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। অনুপ্রবেশ রুখতে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট’ নীতি গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার বন্ধ করতে জিরো টলারেন্স নীতি নেবে নতুন সরকার।
দুর্নীতির তদন্তে ‘শ্বেতপত্র’
আগের সরকারের আমলে হওয়া দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে। দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি পৃথক ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে বিজেপির। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করার কড়া বার্তা দিয়েছেন মোদী-শাহরা।
কৃষি ও উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন
কৃষকদের জন্য ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের চা ও পাট শিল্পের আধুনিকীকরণে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হতে পারে। রাজবংশী ও কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা এবং একটি ‘বন্দে মাতরম সংগ্রহশালা’ তৈরি বিজেপির অন্যতম সাংস্কৃতিক লক্ষ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জনমুখী ও কড়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মিশ্রণ বাংলায় এক নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক যুগের সূচনা করতে চলেছে। এখন দেখার, শপথ গ্রহণের পর কত দ্রুত এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবের মুখ দেখে।