৫ বছর পর খুলল মহাদেবের দুয়ার! ২০২৬-এ কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার খরচ ও নিয়ম জানুন এক ক্লিকেই

কৈলাসে কেল্লাফতে’ কেবল সিনেমার পর্দায় নয়, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে বাস্তবেও কৈলাস জয় জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। স্বয়ং মহাদেবের আবাসস্থল এই পবিত্র তীর্থক্ষেত্রটি কোভিড এবং সীমান্ত সমস্যার কারণে দীর্ঘ ৫ বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৫-এ ফের খুলেছে। ২০২৬ সালে এই যাত্রা আরও সুগম ও পরিকল্পিত হতে চলেছে। আপনি কি আগামী বছর শিবের ধামে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে পকেটের রেস্ত থেকে শারীরিক প্রস্তুতি— জেনে নিন সব খুঁটিনাটি।
পুরাণ ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব
কৈলাস শুধু হিন্দুদের নয়, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও পবিত্র। বৌদ্ধ মতে এটি জগতের কেন্দ্র, আর জৈন ধর্মে প্রথম তীর্থঙ্কর ঋষভদেব এখানেই মোক্ষলাভ করেছিলেন। কৈলাসের পাদদেশে অবস্থিত মানস সরোবর নিয়ে বিশ্বাস রয়েছে যে, এর পবিত্র জলে একবার ডুব দিলে একশো জন্মের পাপ ধুয়ে যায়।
যাত্রার দুটি প্রধান পথ: কোনটি আপনার জন্য?
১. সরকারি রুট (বিদেশ মন্ত্রকের লিপুলেখ পাস):
এটি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং সাশ্রয়ী পথ। প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারত সরকার এই যাত্রা আয়োজন করে।
খরচ: ২০২৬ সালে আনুমানিক ১.৯ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে থাকা-খাওয়া, ভিসা ও মেডিক্যাল চেকআপ অন্তর্ভুক্ত।
সময়: মোট ২৪ দিন। ১০-১২ দিন কঠিন ট্রেকিং করতে হয়। ১৯,৫০০ ফুট উচ্চতায় ডোলমা পাস পেরোনোই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
শর্ত: বয়স ১৮ থেকে ৭০-এর মধ্যে হতে হবে। হার্টের রোগ বা হাঁপানি থাকলে অনুমতি মিলবে না। দিল্লির হাসপাতালে কঠিন মেডিক্যাল টেস্টে পাশ করা বাধ্যতামূলক।
আবেদন: ফেব্রুয়ারি মাসে kmy.gov.in পোর্টালে নজর রাখুন। কম্পিউটার লটারির মাধ্যমে যাত্রী নির্বাচন করা হয়।
২. নেপাল রুট (বেসরকারি সংস্থা):
যাঁদের হাঁটার ক্ষমতা কম বা লটারির ঝামেলা এড়াতে চান, তাঁদের জন্য এই রুট সেরা।
খরচ: ২.১ লক্ষ থেকে ৩.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত (পরিষেবার ওপর ভিত্তি করে)।
সুবিধা: কাঠমান্ডু থেকে সিমিকোট পর্যন্ত বিমানে এবং সেখান থেকে হেলিকপ্টারে তিব্বত সীমান্ত পর্যন্ত যাওয়া যায়। এখানে হাঁটা প্রায় নেই বললেই চলে।
সময়: ১১ থেকে ১৪ দিন। ১০ থেকে ৭৫ বছর বয়সীরাও যেতে পারেন।
প্রস্তুতি নেবেন কীভাবে?
কৈলাস যাত্রা মানেই অক্সিজেনের অভাব। সমতলের তুলনায় মাত্র ৪০% অক্সিজেন থাকে সেখানে। তাই যাত্রার অন্তত ৪ মাস আগে থেকে রোজ ৫-৭ কিমি হাঁটা এবং প্রাণায়াম শুরু করুন। ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করা একান্ত জরুরি। সঙ্গে রাখুন ভালো মানের থার্মাল জ্যাকেট, ওয়াটারপ্রুফ জুতো এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ।
মনে রাখবেন, এটি কেবল পর্যটন নয়, এক কঠিন আধ্যাত্মিক সাধনা। মহাদেবের ডাক এলে এবং সঠিক প্রস্তুতি থাকলে আপনার যাত্রা সফল হবেই।