রেকর্ড ভাঙা গরম বনাম বিধ্বংসী কালবৈশাখী! ভারতের চরম আবহাওয়া নিয়ে কী বলছে মৌসম ভবন?

দেশজুড়ে প্রকৃতির দুই চরম রূপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। একদিকে ওড়িশা ও দক্ষিণবঙ্গ যখন প্রখর রোদে পুড়ছে, ঠিক তখনই উত্তর-পূর্ব এবং মধ্য ভারতে তাণ্ডব চালাচ্ছে শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী। গত ২৪ ঘণ্টায় ওড়িশার ঝাড়সুগুডায় তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ছিল দেশের উষ্ণতম স্থান।
তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে সমতল:
গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারে শুরু হয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহ (Heat Wave)। আবহাওয়াবিদদের মতে, কেবল দিনের বেলা নয়, রাতেও মিলছে না রেহাই। হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থানে চলছে ‘উষ্ণ রাত’ বা Warm Night। সূর্যাস্তের পরেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বেশি থাকায় নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। দিনভর লু-এর দাপটের পর রাতেও চরম অস্বস্তি বজায় থাকছে।
অন্যদিকে ঝড়ের তাণ্ডব:
তাপপ্রবাহের উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে উত্তর-পূর্ব এবং মধ্য ভারতের রাজ্যগুলোতে।
কালবৈশাখীর প্রভাব: অসম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং মধ্যপ্রদেশে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড় ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়েছে।
বাতাসের গতিবেগ: ঝড়ের গতিবেগ কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৯৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
ক্ষয়ক্ষতি: প্রবল শিলাবৃষ্টির কারণে অসম এবং মহারাষ্ট্রের কৃষকরা ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বহু জায়গায় গাছ উপড়ে বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
কেন এই বিচিত্র আবহাওয়া?
মৌসম ভবন (IMD) জানিয়েছে, ভারতের আবহাওয়ায় এখন এক দ্বিমুখী খেলা চলছে। যখন সমতলে সূর্যের প্রখর তেজে মানুষ বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই পাহাড়ের পাদদেশ ও প্রান্তিক এলাকাগুলোতে আছড়ে পড়ছে ঝড়-বৃষ্টি।
কতদিন চলবে এই পরিস্থিতি?
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন এই বিচিত্র আবহাওয়ার ধরন অপরিবর্তিত থাকবে। দক্ষিণবঙ্গে আপাতত বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই, উল্টে বাড়বে অস্বস্তি। অন্যদিকে উত্তর-পূর্ব ভারতে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন বজায় থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।