“ভোট দিতে যাওয়াই কাল হলো!”-প্রথম দফায় বাংলার ৬ জেলায় প্রাণ হারালেন ৭ ভোটার!

আক্ষরিক অর্থেই ‘রক্তপাতহীন’ হয়েছিল বাংলার প্রথম দফার ভোট। কিন্তু হিংসা না থাকলেও প্রকৃতির রুদ্ররূপ কেড়ে নিল তরতাজা ৭টি প্রাণ। বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া, মেদিনীপুর সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তাপপ্রবাহের বলি হলেন ৭ জন ভোটার। গণতন্ত্রের উৎসবে সামিল হতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতির সাক্ষী হবে বাংলা, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেনি কেউ।

বুথের বাইরেই মৃত্যু মিছিল

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই চড়া রোদে পুড়ছিল জেলাগুলো। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পারদ ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়।

    • বাঁকুড়া: জয়পুরের প্রবীণ ভোটার কাশেম চৌধুরী বুথে যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযোগ, সেখানে কর্তব্যরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাছে সাহায্য চেয়েও মেলেনি গাড়ি। অ্যাম্বুল্যান্স আসার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

    • অন্যান্য জেলা: একইভাবে গরমের গ্রাসে প্রাণ হারিয়েছেন উত্তর দিনাজপুরের দুলাল ওঁরাও, বীরভূমের অসীম রায়, মালদার প্রমিদা বাগদি, পটাশপুরের নৃপেন্দ্র দাস এবং কেশপুরের ইসরাতন বিবি ও শেখ বাবলু।

কেন এমন প্রাণঘাতী আবহাওয়া?

আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অক্ষরেখার জেরে সমুদ্র থেকে জলীয় বাষ্প ঢুকছে দক্ষিণবঙ্গে। পাশাপাশি পশ্চিম দিক থেকে আসছে শুকনো বাতাস। এই শুষ্ক তাপ এবং চরম অস্বস্তিকর আর্দ্রতার (Humid Heat) মিশেলেই আবহাওয়া মারণ রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রির উপরে।

বৃষ্টির পূর্বাভাস: কবে মিলবে স্বস্তি?

শুক্রবার ও শনিবারও দক্ষিণবঙ্গে চরম গরম বজায় থাকবে। তবে ভোটার ও সাধারণ মানুষের জন্য আশার কথা শোনাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

  • রবি ও সোমবার: পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও বাঁকুড়ায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

  • দ্বিতীয় দফার আগে: আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ৫০-৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।