“আমাদের হাতে সময় আছে, ইরানের নেই!” পরমাণু হামলা এড়িয়ে তেহরানকে চরম ডেডলাইন দিলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরানকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন, আলোচনার জন্য তেহরানের হাতে সময় অত্যন্ত সীমিত। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প একাধারে যেমন চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেমনই আবার পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন।

পরমাণু বোমা নয়, লক্ষ্য সাধারণ শক্তিতেই:
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের ওপর ইতিমধ্যেই প্রচলিত সামরিক শক্তি ব্যবহার করে বড়সড় আঘাত হেনেছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, “আমরা কোনও তাড়াহুড়ো করছি না। আমাদের হাতে সময় আছে, কিন্তু ইরানের নেই।” ট্রাম্প স্পষ্ট জানান যে, পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের কোনও প্রয়োজন নেই, কারণ প্রচলিত সামরিক শক্তি দিয়েই যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে ‘শ্যুট টু কিল’ অর্ডার:
বর্তমান সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’। ইরান এই পথে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কড়া অবরোধ আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প এর আগেই মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন:

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কোনও নৌকা যদি মাইন পাতে, তবে সেটিকে সরাসরি “গুলি করে ধ্বংস” করতে হবে।

ইরানি তেল রফতানির ওপর অবরোধ আরও কঠোর করা হবে।

রণতরী মোতায়েন ও অনিশ্চিত আলোচনা:
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে ইতিমধ্যেই ‘ইউএসএস জর্জ এইচ.ডব্লিউ বুশ’-সহ একাধিক বিমানবাহী রণতরী ওই অঞ্চলে মোতায়েন করেছে আমেরিকা। যদিও কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু কূটনৈতিক সমাধানের কোনও পথ এখনও দেখা যাচ্ছে না। প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনাও এখন বিশ বাঁও জলে।

বিশ্ব বাজারে তেলের সংকট:
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।