স্কুলে গরমের ছুটি কি তবে এপ্রিলেই? তীব্র দহন আর ভোটের জেরে নবান্নে শুরু বড় তোড়জোড়!

বৈশাখ পড়ার আগেই দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে আগুনের হলকা! তীব্র গরমে নাজেহাল সাধারণ মানুষ থেকে স্কুল পড়ুয়ারা। এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের মধ্যে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— কবে থেকে শুরু হবে গরমের ছুটি? যদিও সরকারিভাবে এখনও কোনো চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, তবে নবান্ন এবং শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকেই দীর্ঘ ছুটির ঘোষণা হতে পারে।

কেন এগিয়ে আসছে ছুটি?
শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, দুটি প্রধান কারণে ছুটি এগিয়ে আসার সম্ভাবনা প্রবল:

তীব্র তাপপ্রবাহ: যেভাবে তাপমাত্রার পারদ ৪০ ডিগ্রির দিকে এগোচ্ছে, তাতে বাচ্চাদের শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক অভিভাবকই গরমে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন।

২০২৬-এর নির্বাচন: এপ্রিলের শেষ থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নির্বাচন সংক্রান্ত কাজের তোড়জোড় শুরু হবে। ফলে পঠন-পাঠন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

পর্ষদের তালিকায় কী আছে?
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) ঘোষিত ২০২৬ সালের ছুটির তালিকায় সাধারণত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে গ্রীষ্মাবকাশের কথা বলা থাকলেও, বিগত কয়েক বছরের ট্রেন্ড বলছে— গরমের তীব্রতা বাড়লে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক আগেই ছুটির নির্দেশ দেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। শোনা যাচ্ছে, ২২ এপ্রিল বা এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকেই সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলিতে ছুটি পড়ে যেতে পারে।

বেসরকারি স্কুলগুলির অবস্থান
সরকারি স্কুলের পাশাপাশি নামী বেসরকারি স্কুলগুলিও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। অনেক স্কুল ইতিমধ্যেই ক্লাসের সময় কমিয়ে দিয়েছে অথবা অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার কথা ভাবছে। যদি রাজ্য সরকার আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে, তবে অধিকাংশ বেসরকারি স্কুলও একই পথে হাঁটবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।

অভিভাবকদের উদ্বেগ
সকাল ১০টার পর রোদের যে তেজ, তাতে ছোট বাচ্চাদের যাতায়াত করা দুঃসহ হয়ে উঠছে। অভিভাবকদের দাবি, মে মাসের ১১ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত ছুটি ঘোষণা করা হোক। সম্ভবত আগামী সপ্তাহের শুরুতেই নবান্ন থেকে এই বিষয়ে কোনো ‘মেগা আপডেট’ আসতে পারে।

আপাতত গরমের ছুটি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সকালে বাচ্চাদের পর্যাপ্ত জল এবং ছাতা নিয়ে স্কুলে পাঠানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।