১০০০ কোটির ডিল নাকি AI-এর কারসাজি? ভাইরাল ভিডিও নিয়ে এবার হাইকোর্টে হুমায়ুন কবীর!

বাংলার ভোটযুদ্ধের মাঝেই ‘ভাইরাল ভিডিও’ বিতর্কে নয়া মোড়। হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা এবং মুসলিম ভোট নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের যে ভিডিও ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, সেই ঘটনায় এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। তাঁর সাফ দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI (Deepfake) ব্যবহার করে এই জাল ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।

আদালতে হুমায়ুনের আর্জি
হুমায়ুন কবীর আদালতে মামলা দায়ের করে দাবি করেছেন, তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে কারা এই ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে, তার যথাযথ তদন্ত হোক। আগামী বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত
কয়েকদিন আগে তৃণমূল কংগ্রেস একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে বিজেপির সঙ্গে ১০০০ কোটি টাকার গোপন চুক্তি করেছেন হুমায়ুন। ওই ভিডিওতে হুমায়ুনকে বলতে শোনা যায়, “মুসলমানদের বোকা বানানো সহজ” এবং শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে দিল্লি নিয়ে গিয়ে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করাবেন। (দ্রষ্টব্য: এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম)।

শাহ-মোদির প্রতিক্রিয়া
এই ভিডিও নিয়ে জাতীয় স্তরেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

অমিত শাহ: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে কোনো চুক্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, “যিনি বাংলায় বাবরি মসজিদ তৈরির কথা বলেন, তাঁর সঙ্গে সমঝোতার চেয়ে ২০ বছর বিরোধী আসনে বসা ভালো।”

নরেন্দ্র মোদি: প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নাম না নিলেও নির্বাচনী সভা থেকে সতর্ক করেছেন যে, ভোট যত এগোবে বিরোধীরা ততই AI ভিডিও বা ডিপফেক ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করবে।

ভেঙে গেল মিম-জোট
এই ভিডিওর জেরে হুমায়ুন কবীরের বড় ক্ষতি হয়েছে তাঁর জোটে। এআইএমআইএম (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি ভিডিওটির কারণ দেখিয়ে হুমায়ুনের দলের সঙ্গে জোট ভেঙে দিয়েছেন। পাল্টা হুমায়ুন দাবি করেছেন, তৃণমূলের সঙ্গে ২০ কোটি টাকার লেনদেন করেই ওয়েইসিরা জোট ভেঙেছেন এবং তৃণমূলকে সুবিধা করে দিচ্ছেন।

সংসদে পরাজয় আর বাংলায় প্রচারের জোয়ারের মাঝে হুমায়ুন কবীরের এই আইনি পদক্ষেপ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। ভিডিওটি কি সত্যিই জাল নাকি এর নেপথ্যে কোনো গভীর রাজনৈতিক অঙ্ক রয়েছে, তার উত্তর এখন আদালতেই মিলতে পারে।