ভোটের ডিউটি নিয়ে তুলকালাম! অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগে স্থগিতাদেশ কলকাতা হাইকোর্টের

বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক আগে বড়সড় আইনি ধাক্কা খেল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কলেজের অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করার যে বিজ্ঞপ্তি কমিশন জারি করেছিল, শুক্রবার তা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এই নির্দেশের ফলে ভোটের ডিউটি নিয়ে নতুন করে টানাপড়েন শুরু হয়েছে।
আদালতে কমিশনের অস্বস্তি
ভোটের কাজে কেন অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার ব্যাখ্যা চেয়েছিল আদালত। কিন্তু শুক্রবার শুনানিতে কমিশন সেই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। এর ফলে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও ওই বিজ্ঞপ্তিটি খারিজ করে দেন।
বিচারপতির কড়া মন্তব্য ও ভর্ৎসনা
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা করে বলেন, “বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তো আপনারা বিচারকদেরও নিয়োগের ব্যবস্থা রেখেছেন! আমাদের কোনো অসুবিধা নেই, আমাদেরও নিয়োগ করুন। আমরাও পোলিং অফিসার হিসেবে বুথে ডিউটি করতে যাব।” বিচারপতির এই মন্তব্যে আদালতকক্ষে শোরগোল পড়ে যায়।
কারা ছাড় পাচ্ছেন, কারা পাবেন না?
হাইকোর্টের এই নির্দেশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে:
নিয়োগ বাতিল: যারা এই বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, তাঁদের অবিলম্বে ভোটের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে।
ছাড়: যে সমস্ত অধ্যাপক ইতিমধ্য়েই প্রশিক্ষণ নিয়ে ফেলেছেন বা প্রশিক্ষণ নিতে চলে গিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই রায় কার্যকর হবে না। অর্থাৎ, তাঁরা ভোটের ডিউটি করতে পারবেন।
অনিচ্ছুক অধ্যাপকদের স্বস্তি: যাঁদের এখনও প্রশিক্ষণ শুরু হয়নি এবং যারা যেতে ইচ্ছুক নন, তাঁদের আর জোর করে প্রিসাইডিং অফিসার করা যাবে না।
কমিশনের উদ্বেগ
কমিশন আদালতে যুক্তি দিয়েছিল যে, নির্বাচনের মুখে নতুন করে কর্মী নিয়োগ করে প্রশিক্ষণ দেওয়া অসম্ভব। এতে ভোট প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাওয়ার বা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা ছাড়া অধ্যাপকদের এই গুরুত্বপূর্ণ এবং পরিশ্রমসাধ্য কাজে বাধ্যতামূলকভাবে পাঠানো যাবে না।
প্রথম দফা নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে আদালতের এই রায় কমিশনের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।