ভোটের মুখে শহরে টাকার পাহাড়! জোড়াসাঁকোয় পুলিশের জালে ৩, উদ্ধার লক্ষ লক্ষ নগদ!

হাতে সময় আর মাত্র কয়েকটা দিন। দোরগোড়ায় নির্বাচন। আর ঠিক তার আগেই মহানগরী কলকাতা এবং শহরতলিতে কড়া নজরদারি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার হদিশ পেল পুলিশ। জোড়াসাঁকোয় পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হলো প্রায় ১৮ লক্ষাধিক টাকা। একই দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরেও নাকা তল্লাশিতে মিলেছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

জোড়াসাঁকোয় ১৮ লক্ষের রহস্য
কলকাতা পুলিশের ১৬৫ নম্বর জোড়াসাঁকো বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় রুটিন টহল দিচ্ছিল একটি বিশেষ দল। সেই সময়ই সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তিকে দেখে দাঁড় করান পুলিশ আধিকারিকরা। খবর দেওয়া হয় নির্বাচন কমিশনের ফ্লাইং স্কোয়াডকে (FST)। তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ আধিকারিকদের! ওই তিন ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার হয় মোট ১৮ লক্ষ ১৩ হাজার ৩০০ টাকা। কিন্তু এই টাকার উৎস কী? বা কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এই বিপুল নগদ? কোনো বৈধ নথি দেখাতে না পারায় তিনজনকে আটক করে টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

জয়নগরেও উদ্ধার নগদ লক্ষ লক্ষ টাকা
শুধু কলকাতা নয়, কালো টাকার খোঁজ মিলল দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও। জয়নগরের বকুলতলা থানার বুড়োরঘাট এলাকায় নাকা তল্লাশি চালাচ্ছিল স্ট্যাটিক সার্ভেলিয়েন্স টিম (SST)। সেখানে এক বাইক আরোহীর ব্যাগ তল্লাশি করে উদ্ধার হয় নগদ ৩ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা। ধৃত ব্যক্তির নাম জুলফিকার শেখ। পুলিশি জেরায় বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় ওই টাকাও আটক করা হয়েছে।

কমিশনের কড়া নজরদারি
ভোটের বাজারে কালো টাকার ব্যবহার রুখতে এবং নির্বাচনকে সম্পূর্ণ ‘স্বচ্ছ ও ভয়মুক্ত’ করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।

শহরের মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে PTZ ক্যামেরা।

২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রয়েছে FST (ফ্লাইং স্কোয়াড) এবং SST (স্ট্যাটিক সার্ভেলিয়েন্স টিম)।

বিশেষ করে সীমানা এলাকা এবং জনবহুল মোড়গুলোতে নাকা চেকিংয়ের মাত্রা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের নজর
ভোটের ঠিক আগে এভাবে যত্রতত্র নগদ টাকা উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই এই নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন গতিবিধি দেখলেই তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আসন্ন নির্বাচনে কোনো অসাধু উপায়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।