আবারও শুরু হবে বোমাবর্ষণ? ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি, কাঁপছে দুনিয়া!

পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির প্রদীপ কি তবে নিভেই যাচ্ছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে সেই আশঙ্কাই জোরালো হচ্ছে। শুক্রবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ তিনি আর নাও বাড়াতে পারেন। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ফের বড় মাপের সামরিক সংঘাতের কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে।

ট্রাম্পের ‘বোমা’ তত্ত্ব ও নৌ-অবরোধ
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। যদি তার আগে কোনো সম্মানজনক চুক্তি না হয়, তবে ওয়াশিংটন আর নমনীয় হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কড়া সুরে বলেন, “অবরোধ তো চলবেই, আর দুর্ভাগ্যবশত আমাদের হয়তো আবার বোমা ফেলা শুরু করতে হবে।” অর্থাৎ, আলোচনার টেবিল থেকে রণাঙ্গনে ফিরতে যে আমেরিকা দ্বিতীয়বার ভাববে না, তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি।

পাল্টা তোপ ইরানের: বন্ধ হতে পারে হরমুজ
ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহি মনোভাবের পর হাত গুটিয়ে বসে নেই তেহরানও। ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তারা গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ করে দিতে পারেন। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও লেবাননে যুদ্ধবিরতি যতদিন বজায় থাকবে, হরমুজ কেবল ততদিনই খোলা রাখা হবে।

ইসলামাবাদে শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক চেষ্টা
সংঘাতের আবহেই শান্তির শেষ আশাটুকু টিকে আছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার ইসলামাবাদে ইরান এবং আমেরিকার প্রতিনিধিদের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকতে পারেন। উল্লেখ্য, গত ১১-১২ এপ্রিল আয়োজিত প্রথম দফার ‘ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনা’ কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছিল।

প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক জটিলতা
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম আমেরিকা ও ইরান উচ্চ-পর্যায়ে মুখোমুখি বসেছে, যা ঐতিহাসিক। কিন্তু ট্রাম্পের ‘অবরোধ ও হামলা’র নীতি এবং ইরানের পাল্টা ‘হরমুজ বন্ধ’ করার হুঁশিয়ারি সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে খাদের কিনারায় নিয়ে দাঁড় করিয়েছে।

২২ এপ্রিলের আগে কোনো রফাসূত্র না বেরোলে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র যে আবারও বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে উঠবে, সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে বর্তমান ভূ-রাজনীতি। এখন সারা বিশ্বের নজর সোমবারের ইসলামাবাদ বৈঠকের দিকে।