এখনও মাত্র ১০ টাকা! হাওড়া স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম টিকিট কাটতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ তরুণীর!

নতুন বছরের আমেজ আর পহেলা বৈশাখের ভিড়—সব মিলিয়ে মুখরিত ছিল হাওড়া স্টেশন। সেই উৎসবের মেজাজেই বন্ধু অর্পিতাকে রিসিভ করতে স্টেশনে পৌঁছেছিলেন সৃজনী (নাম পরিবর্তিত)। পরিকল্পনা ছিল দিনভর হালখাতার নিমন্ত্রণ রক্ষা আর কবজি ডুবিয়ে খাওয়া-দাওয়া। কিন্তু টিকিট কাউন্টারে গিয়েই শুরু হলো এক অবাক করা অভিজ্ঞতা।

১০ টাকার চমক!
প্লাটফর্ম টিকিট কাটতে গিয়ে সৃজনী যখন ৫০ টাকার নোট দিলেন, কাউন্টার থেকে চাওয়া হলো আরও ১০ টাকা। অবাক সৃজনী প্রশ্ন করলেন, “দাম কি তবে বেড়েছে?” উত্তর এল— না, প্ল্যাটফর্ম টিকিটের দাম এখনও মাত্র ১০ টাকাই রয়েছে। গত কয়েক বছরে ট্রেনের টিকিটের দাম বা অন্যান্য পরিষেবার খরচ বাড়লেও, সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকতে এই টিকিটের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে রেল।

কেন এই স্বল্প মূল্য?
সৃজনীর বন্ধু অর্পিতার মতে, “টিকিটের দাম বাড়ানো হয়নি যাতে নিয়ম মেনে সবাই স্টেশনে ঢুকতে পারে এবং এটি সবার জন্য সহজলভ্য হয়।” কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি কি তাই বলছে? দেখা যাচ্ছে, মাত্র ১০ টাকা দাম হওয়া সত্ত্বেও এক শ্রেণির মানুষ টিকিট না কেটেই স্টেশনে অবাধে যাতায়াত করছেন।

ভিড় ও দূষণ: মাথাব্যথা রেলের
রেল কর্তৃপক্ষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে এই টিকিটের গুরুত্ব না বোঝার প্রবণতা।

অহেতুক ভিড়: টিকিট ছাড়াই আড্ডা দিতে বা সময় কাটাতে স্টেশনে ঢুকে পড়ছেন অনেকে, ফলে হয়রান হচ্ছেন আসল যাত্রীরা।

পরিবেশ দূষণ: প্ল্যাটফর্মে যত্রতত্র খাবারের মোড়ক ও চায়ের ভাঁড় ফেলে নোংরা করা হচ্ছে পরিবেশ।

রেলের বার্তা:
এই বিষয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, “রেলওয়ের প্রত্যাশা, বৈধ যাত্রী ছাড়া অন্যরা যেন অন্তত ১০ টাকার টিকিট কেটে স্টেশনে প্রবেশ করেন। এতে শৃঙ্খলা বজায় থাকে। পাশাপাশি প্ল্যাটফর্ম পরিষ্কার রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব।”

পহেলা বৈশাখের নতুন দিনে এই ১০ টাকার টিকিটের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দিল—নিয়ম মানাটা শুধু আইন নয়, এটা অন্যদের প্রতি সৌজন্যও বটে। মাত্র ১০ টাকা খরচ করে যদি স্টেশনের ভিড় কমানো এবং যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানো যায়, তবে সেই দায়িত্ব কেন নেব না আমরা?