দিল্লির রাস্তায় তুলকালাম! অমিত শাহের দপ্তরের সামনে আটক মহুয়া-ডেরেক, রণক্ষেত্র রাজধানী

লোকসভা ভোটের মুখে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর অতি-সক্রিয়তাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংঘাতের সাক্ষী থাকল জাতীয় রাজধানী। বৃহস্পতিবার কলকাতার আই-প্যাক (I-PAC) দপ্তরে কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশির প্রতিবাদে শুক্রবার খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা। নাটকীয় মোড় নিল যখন দিল্লি পুলিশ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং মহুয়া মৈত্রসহ আট তৃণমূল সাংসদকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তুলে আটক করে।
ইডির বিরুদ্ধে ‘ডেটা চুরির’ চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তৃণমূলের দাবি, স্রেফ দুর্নীতির তদন্ত নয়, বরং ২০২৬-এর আগে দলের রাজনৈতিক কৌশল এবং গোপনীয় তথ্য হাতানোর জন্যই প্রশান্ত কিশোরের তৈরি সংস্থা আই-প্যাকের দপ্তরে হানা দিয়েছে ইডি। মহুয়া মৈত্র চাঁচাছোলা ভাষায় বলেন, “গোটা দেশ দেখল কীভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ইডিকে অপব্যবহার করছে। আমাদের রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি চুরি করার লক্ষ্যেই এই অভিযান। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন সিংঘী, তিনি দলের সম্পদ রক্ষা করতে জানেন।”
মাঠ ছাড়তে নারাজ কীর্তি আজাদ ও ডেরেক অমিত শাহের দপ্তরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হয়ে প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা সাংসদ কীর্তি আজাদ সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণের নিশানায় নেন। তিনি অভিযোগ করেন, “বিগত ১১ বছর ধরে বিজেপি কোনো সঠিক টেন্ডার জারি করেনি। সবকিছু নিজেদের ঘনিষ্ঠ লোকেদের হাতে তুলে দিয়ে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে।” বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশি হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছে— “এটা কি গণতন্ত্র নাকি একনায়কতন্ত্র? নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর আক্রমণ করে কি ভিন্নমত দমন করা সম্ভব? পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, বিজেপি এখন বাংলা আর মমতাকে ভয় পাচ্ছে।”
নেপথ্যে কী কারণ? কয়লা পাচার মামলার তদন্তের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার সকালে আই-প্যাকের কলকাতা অফিস এবং সংস্থার ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাসভবনে দীর্ঘ তল্লাশি চালায় ইডি। আই-প্যাক মূলত তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল সাজানোর কাজ করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “নির্বাচনের আগে পরিকল্পনা করে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওরা আমাদের সব তথ্য, এসআইআর (SIR) তালিকা চুরি করেছে। কুম্ভমেলার জন্য কেন্দ্রের কোষাগার খোলা থাকলেও বাংলার বেলায় এক পয়সা মেলা ভার। তবে মনে রাখবেন, বাংলাকে দমানো যাবে না।”
রাজধানীর বুকে তৃণমূল সাংসদদের এই আটক এবং ইডির অভিযানকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “মানবতা ও ন্যায়ের লড়াই চলবে, বাংলা কোনোদিন মাথা নত করবে না।”