‘আমাদের টাকায় সরকার মেসি দেখল’! যুবভারতীতে চরম ক্ষোভের মুখে মন্ত্রী-নেতারা, মেসিকে না দেখে ‘চোর চোর’ স্লোগান

লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত চরম ক্ষোভে আছড়ে পড়েছে। ফুটবল মাঠ পরিণত হয়েছে রণক্ষেত্রে। ক্ষুব্ধ জনতা একদিকে যেমন মাঠে চেয়ার এবং জলের বোতল ছুড়েছেন, তেমনি স্টেডিয়ামের এক দিকের গোলপোস্টও ভেঙে ফেলেছেন বলে জানা গিয়েছে।
দর্শকদের ক্ষোভের মূল লক্ষ্য ছিলেন আয়োজক এবং রাজ্যের মন্ত্রী-নেতারা। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত টিকিট কেটেও ‘ভগবান’ দর্শন না পেয়ে হতাশা ও ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তাঁরা।
দর্শকদের তীব্র প্রতিক্রিয়া:
মন্ত্রীর প্রতি কটাক্ষ: এক দর্শক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা অরূপ বিশ্বাসকে দেখতে পেয়েছি”। অন্য একজন বলেন, “আমাদের টাকায় সরকার মেসিকে দেখল”। আরেকজন অভিযোগ করেন, “অরূপ বিশ্বাসকে দেখলাম ভালভাবে সেলফি তুলতে। মনে হচ্ছিল মেসির জায়গায় অরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে প্রোগ্রাম হচ্ছে।”
টিকিটের দাম ও আয়োজক: ৪ হাজার, ৫ হাজার বা ১০ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কাটার পরেও মেসিকে দেখতে না পাওয়ায় দর্শকদের তীব্র আক্ষেপ। এক যুবক বলেন, তিনি সারা রাত বাইপাসের হোটেলে মেসির আশপাশে অপেক্ষা করেও দর্শন পাননি। ক্ষুব্ধ দর্শকরা আয়োজক শতদ্রু দত্তকে নিষিদ্ধ (ব্যান) করার দাবি তুলেছেন এবং এই ঘটনাকে “স্ক্যাম ২০২৫, অ্যান ইনিশিয়েটিভ বাই শতদ্রু দত্ত” বলেও কটাক্ষ করেছেন।
মাঠে ভিড়: দর্শকদের অভিযোগ, “শুধু নেতারা ঘিরে ছিল” এবং “মাঠে স্তাবক, পুলিশ ও মিডিয়া ঘিরে ছিল”। এক দর্শক সাঁতরাগাছি থেকে এসে বলেন, “আমরা শুধু মেসির হাত দেখতে পেয়েছি”। আরেকজনের আক্ষেপ, “মেসিকে দেখতে এসে শুধুই ক্যামেরাম্যান দেখে গেলাম।”
উঠে এল স্লোগান: ক্ষোভে ফেটে পড়া জনতার একাংশ মাঠে ‘চোর চোর’ স্লোগানও তোলে। কেউ কেউ সরাসরি টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান এবং প্রশ্ন তোলেন, “এরা কি ভোটের জন্য টাকা জমাচ্ছে নাকি?”
আন্দ্রে প্রদেশ থেকে আসা প্রবাসী এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ফ্যান— সকলেই মেসিকে দেখতে না পাওয়ায় হতাশ। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার রাজ্য সরকার ও তৃণমূলকে তোপ দেগে বলেন, “তৃণমূল দল ও সরকার মেসিকে নিয়ে মেস করে ছাড়ল।”