‘লোকে বলেছিল মানাতে পারবে না’, ক্যান্সার জয় করে 11 বছর পর ফিরে আবেগে আপ্লুত পাপিয়া সেন, ‘শুটিং সেটে এলেই মনে হয় বাড়িতে আছি’

মঞ্চে অভিনয় জীবন শুরু মাত্র সাত বছর বয়সে। পরিবারে পিতৃকূল থেকে পতিকূল পর্যন্ত সকলেই বিনোদন জগতের তাবড় ব্যক্তিত্ব। কথা হচ্ছে অভিনেত্রী পাপিয়া সেনকে (Papiya Sen) নিয়ে, যিনি স্বয়ং পরিচালক রাজা সেনের স্ত্রী এবং অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তীর বোন। ক্যান্সারের মারণ থাবা জয় করে এবং নাতনিদের জন্য দীর্ঘ সময় বিরতি নিয়ে টানা ১১ বছর পর তিনি আবার ফিরেছেন বাংলা টেলিভিশনের পর্দায়।

বর্তমানে তাঁকে ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকে প্রিয় ঠাম্মির চরিত্রে দেখা যাচ্ছে। এই ঘরোয়া ইমেজ নিয়ে সোম থেকে শুক্র রাত সাড়ে 9টায় দর্শকদের কাছে ফিরছেন তিনি।

‘এই আন্তরিকতায় আমি মুগ্ধ’:

দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে এসে কাজের পরিবেশ প্রসঙ্গে পাপিয়া সেন জানান, অনেকেই তাঁকে বলেছিলেন, “এখন সিরিয়ালে জয়েন করছো? তুমি মানিয়ে নিতে পারবে না।” কিন্তু শুটিং সেটের পরিবেশ তাঁর মন ছুঁয়েছে। তিনি বলেন, “সত্যিই আমার এখানে এলে একটা দিনের জন্যও মনে হয় না যে আমি বাড়িতে নেই। মনে হয় যেন বাড়িতেই আছি। সকলে এতটাই আন্তরিক।”

অভিনেত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, বাড়িতে তাঁর মেয়ে ও নাতনিরা বাইরে থাকায় তিনি একা থাকেন। কিন্তু সেটে এলে তিনি যেন একঝাঁক নাতি-নাতনিকে পেয়ে যান। সকলে তাঁকে ডেকে খোঁজ নেয়, জিজ্ঞেস করে শরীর ঠিক আছে কি না। এমনকি, “অনেকে আবার আমার শরীর খারাপ লাগছে মনে হলে পরিচালককে বলে, দিদিকে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দাও। এই আন্তরিকতায় আমি মুগ্ধ।”

ক্যান্সার জয় ও ফিরে আসা:

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে পাপিয়া সেন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। অসম্ভব জীবনী শক্তি ও চিকিৎসার জোরে তিনি সেই মারণ রোগকে জয় করেছেন। নাতনিদের আগমনের কারণেই তিনি একসময় অভিনয় ছেড়ে সংসারে মন দিয়েছিলেন। তবে অভিনয়ে না থাকলেও তিনি স্বামী রাজা সেনের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতেন এবং হিসেব নিকেশের দিক সামলাতেন। দীর্ঘ ১১ বছর পর এই হাউজ থেকে অফার আসায় তিনি না করেননি, কারণ এই হাউজ বরাবরই শিল্পীদের যথেষ্ট সম্মান দেয়।