৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল, সিঙ্গল বেঞ্চের রায় খারিজ হতেই অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ তৃণমূল সাংসদ কল্যাণের

কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার এক ঐতিহাসিক রায়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখল। এই রায়ের ফলে প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের একক বেঞ্চের বাতিলের নির্দেশ খারিজ হয়ে গেল। এই রায়ের পরপরই মুখ খুললেন তৃণমূল সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নিশানা:

তৎকালীন সিঙ্গল বেঞ্চের রায়প্রদানকারী বিচারপতি, যিনি বর্তমানে বিজেপি সাংসদ, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বিচারপতি রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট হলে দেশের বিচারব্যবস্থা, সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয়।”

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ডিভিশন বেঞ্চের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “সিঙ্গল বেঞ্চ বলেছিল ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। কিন্তু তার স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেনি কেউ। ন’বছর ধরে চাকরি করছেন শিক্ষকরা। তাঁদের চাকরি কেড়ে নেওয়া হলো কোনও অভিযোগের ভিত্তিতে। ভালো রায় দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। আমরা ডিভিশন বেঞ্চের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি ব্যক্তিগত ভাবে কৃতজ্ঞ বিচারপতিদের কাছে।” তিনি আরও বলেন যে, “বিচারব্যবস্থায় যাঁরা বিচার করেন, তাঁরা সমস্ত কিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে, রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে, নিজস্ব ভাবনা, নিজস্ব পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে গিয়ে কাজ করেন, যা আজ ডিভিশন বেঞ্চ করেছে।”

শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া: ‘সত্যের জয় হলো’

এদিকে, আদালতের এই স্বস্তিদায়ক রায়দানের পরেই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন: “আজকে মহামান্য হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে অভিনন্দন জানাই। হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বাতিল হয়েছে। ৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রইল। শিক্ষকদেরও সতত শুভেচ্ছা। সত্যের জয় হল।” এই রায়ে রাজ্যের শিক্ষক সমাজ ও শাসক দল উভয়েই খুশি।