এইচআইভি চিকিৎসায় যুগান্তকারী আবিষ্কার, বছরে মাত্র একবার থেরাপিতেই এক বছরের বেশি ভাইরাস দমন, মুক্তি মিলবে প্রতিদিনের ওষুধ থেকে!

বিশ্বজুড়ে চার কোটিরও বেশি এইচআইভি (HIV) রোগীর জন্য এক নতুন আশার আলো দেখালেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সান ফ্রান্সিসকোর (UCSF) বিজ্ঞানীরা। বর্তমানে অ্যান্টি-রেট্রোভাইরাল থেরাপি (ART)-এর মাধ্যমে এইচআইভি চিকিৎসা করা হলেও, প্রতিদিন ওষুধ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকে। একটি ডোজ মিস হলেই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এবার বিজ্ঞানীরা এমন একটি যুগান্তকারী ইমিউনোথেরাপি তৈরি করেছেন, যা একবার প্রয়োগের পর রোগীরা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিনের ওষুধ খাওয়া থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
টি-সেল সক্রিয় করে ভাইরাসের দমন:
‘নেচার’ জার্নালে প্রকাশিত এই ছোট কিন্তু অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ১০ জন এইচআইভি-পজিটিভ ব্যক্তির উপর নতুন সম্মিলিত থেরাপিটি পরীক্ষা করেন। এই থেরাপিতে একটি ভ্যাকসিন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয়কারী ওষুধ এবং অ্যান্টিবডি নিরপেক্ষ করার সংমিশ্রণ ছিল। রোগীদের নিয়মিত ART বন্ধ করে এই চিকিৎসা দেওয়া হয়। ফলাফল ছিল চিত্তাকর্ষক: ১০ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে সাতজনের শরীরে ভাইরাসের মাত্রা এত কম ছিল যে তা কোনও ক্ষতি করার সম্ভাবনা রাখেনি। একটি ক্ষেত্রে, ভাইরাসটি ১৮ মাস ধরে দমন ছিল, যা এক বছরেরও বেশি।
গবেষকদের দাবি, এই থেরাপি শরীরের টি-সেল (T-cell)—রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রধান রক্ষাকর্তা—কে এমনভাবে সক্রিয় করে তোলে, যা ভাইরাসকে পুনরুত্থানের সুযোগ দেয় না।
‘ফাংশনাল কিউরের’ পথে:
এই আবিষ্কারকে বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতে ‘ফাংশনাল কিউর’ বা কার্যক্ষম নিরাময়ের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এর অর্থ হলো—রোগীরা নিয়মিত ওষুধ ছাড়াই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন। বর্তমানে ART শুধুমাত্র ভাইরাসকে দমন করে, কিন্তু সম্পূর্ণ নির্মূল করতে পারে না। নতুন ইমিউনোথেরাপি ভবিষ্যতে ভাইরাসকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করারও সম্ভাবনা জাগাচ্ছে।
প্রতিদিন ওষুধ খাওয়ার বাধ্যবাধকতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং খরচ কমানোর ক্ষেত্রে এই থেরাপি এইচআইভি রোগীদের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।