ইমরান খান কি বেঁচে আছেন? মৃত্যু-গুজবের মাঝেই জেলের সামনে বিক্ষোভে পরিবার, ছেলের প্রশ্ন—’৬ সপ্তাহ ধরে বাবার খবর নেই কেন?’

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান বর্তমানে কেমন আছেন, তা নিয়েই এখন জোর জল্পনা ও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দিন দু’য়েক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ভিত্তিহীন খবর ছড়িয়ে পড়ে। এই আবহে রাওয়ালপিণ্ডির জেলের সামনে প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে ইমরানের বোনদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর পুত্রও।

২০২৩ সালের অগাস্ট মাস থেকে একাধিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে রাওয়ালপিণ্ডির আদিয়ালা জেলে রয়েছেন ইমরান খান। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, একমাসেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। যদিও জেল কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।

‘আমার কিছু হলে মুনির দায়ী থাকবেন’ এই আবহে এক বছর আগে, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ২ মে একটি ব্রিটিশ দৈনিকে লেখা ইমরানের একটি op-ed এখন নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে খান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে সামরিক প্রতিষ্ঠানকে তাঁর দলের রাজনৈতিক উপস্থিতি কমানোর জন্য ব্যবহার করার অভিযোগ করেন। এরপরই তিনি দাবি করেন, তাঁর কিছু হলে মুনির দায়ী থাকবেন।

ইমরান লিখেছিলেন: “সামরিক বাহিনী আমার বিরুদ্ধে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। এখন তাদের শুধু আমাকে হত্যা করা বাকি আছে। আমি প্রকাশ্যে বলেছি যে আমার বা আমার স্ত্রীর কিছু হলে, জেনারেল আসিম মুনির দায়ী থাকবেন। কিন্তু আমি ভীত নই, কারণ আমার বিশ্বাস দৃঢ়। আমি দাসত্বের চেয়ে মৃত্যুকে বেশি প্রাধান্য দেব।”

পুত্রের প্রশ্ন, পরিবারের বিক্ষোভ ‘জেলে ইমরানের মৃত্যু হয়েছে’, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়তেই আদিয়ালা জেলের বাইরে তাঁর সমর্থকরা অবস্থানে বসেন এবং ইমরানের সঙ্গে দেখা করার দাবি জানান। তাঁর পুত্র কাসিম খানও বাবার মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। কাসিম লিখেছেন, “গত ছয় সপ্তাহ ধরে, তাঁকে মৃত্যু-কারাগারে রাখা হয়েছে। যেখানকার পরিবেশ সম্পূর্ণ নির্জন। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও, তাঁর বোনদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। কোনও ফোন কল করা যাচ্ছে না, কোনও মিটিং নেই এবং এমনকী তাঁর সুস্থতার কোনও খবর নেই। কোনওভাবেই আমি বা আমার ভাই বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না।”