‘না করলেও সঙ্গ তো দিয়েছ!’ ধর্ষণ-কাণ্ডের মূল অভিযুক্তকে পুলিশের গাড়িতে ডেকে তুলে দিলেন নিজেরই দিদি

ধর্ষণ, নারী নির্যাতন বা সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে বিপ্লবের ঝড় ওঠে প্রায়ই। কিন্তু নিজের জীবনের আবেগকে সরিয়ে রেখে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে পারে কয়জন? দুর্গাপুরের এক গণধর্ষণ-কাণ্ডের মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার পর এই প্রশ্নটাই ঘুরে ফিরে আসছে। কারণ, এই অভিযুক্তকে হন্যে হয়ে খোঁজার সময় তাকে ধরিয়ে দিলেন তার নিজেরই দিদি!
দুর্গাপুর গণধর্ষণ-কাণ্ডে মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে অন্যতম হল সফিক শেখ, যে কলেজছাত্রীকে গণধর্ষণে অভিযুক্ত। বিজড়া ডাঙাপাড়ার বাসিন্দা সফিককে তার নিজের দিদি রোজিনা শেখই পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
সূত্র মারফত জানা যায়, পুলিশ যখন সফিককে আত্মীয়দের বাড়ি বাড়ি খুঁজেও নাগাল পাচ্ছিল না, তখনই রোজিনা এই চরম সিদ্ধান্ত নেন। একজন মেয়ে হয়ে আরেক মেয়ের কষ্ট তাঁকে এমনভাবে নাড়িয়ে দেয় যে তিনি ঠিক করেন, ভাইকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।
ভাই গণধর্ষণে অভিযুক্ত জানার পরই দিদি সফিকের শ্বশুরবাড়িতে ফোন করেন এবং সফিক ফোন করলে তাঁকে জানাতে বলেন। সফিক অন্য একটি নম্বর থেকে শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে। সঙ্গে সঙ্গে রোজিনাকে সেই নম্বর দেওয়া হয়। এরপরের চিত্রনাট্য ছিল আরও রোমাঞ্চকর।
রোজিনা শেখ জানান, “আমি আবার অন্য নম্বর থেকে ফোন করলাম।… সফিক আমার সাথে কথা বলল।… আমি বললাম তুই কালকে যেখানে আছিস সারেন্ডার কর। বলল, ‘আমি তো কিছু করিনি। বেকার আমাকে মারবে।’ আমি বললাম, ‘না করলেও সঙ্গ তো দিয়েছ।’ ”
পলাতক ভাই সফিককে দিদি অন্ডাল হাইওয়ের নিচে আসতে বলেন। ভাই পালিয়ে যেতে চাইলেও ছুঁতোয় তাকে আটকান দিদি। এরপর সাদা-পোশাকে থাকা পুলিশকে ডেকে ভাই সফিককে তাদের হাতে তুলে দেন তিনি। অন্ডাল হাইওয়ের নিচে দাঁড়ানো সফিককে নিজের গাড়িতে ডেকে নেন রোজিনা। গাড়িতেই তাকে পুলিশের কাছে ‘হ্যান্ডওভার’ করে দেন।
আপাতত অভিযুক্ত সফিক শেখ পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। দিদি রোজিনা চান, তদন্ত নিরপেক্ষভাবে এগিয়ে চলুক এবং নির্যাতিতা মেয়েটি সুবিচার পাক। তাঁর এই পদক্ষেপকে ‘আসল সমাজ সংস্কার’ বলে সাধুবাদ জানাচ্ছেন প্রত্যেকেই।