বাসের পিছন থেকে ধোঁয়া, কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভয়াবহ আগুন: কীভাবে ঘটল জয়সালমীর-যোধপুর হাইওয়ের এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা?

রাজস্থানের জয়সালমীরে মঙ্গলবার দুপুরে একটি স্লিপার বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২০ জন যাত্রীর ঝলসে মৃত্যু হয়েছে এবং কমপক্ষে ১৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত, মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং খিমসার-সহ বহু নেতা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
রাজস্থানের মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং খিমসার এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমার জীবনে এমন ঘটনা কখনও দেখিনি।” তিনি জানান, মৃতদেহগুলি মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাদের শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ স্যাম্পলিং করা হবে। মন্ত্রী আরও জানান যে, “বাসে বিস্ফোরণ হয়েছিল এবং এফএসএল (ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি) টিম ঘটনাটি তদন্ত করবে। তদন্তের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, দুর্ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম সাহায্য করা হবে। তিনি আহতদের দ্রুত এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য নির্দেশও দেন। মুখ্যমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করে এই দুঃখজনক ঘটনার তথ্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জয়সালমীরের এই বাস দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। পিএমও থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট শেয়ার করে তিনি লেখেন, “রাজস্থানের জয়সালমীরে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় আমি ব্যথিত। এই কঠিন সময়ে আমার সমবেদনা নিহত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে রয়েছে।” তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, এই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ৩:৩০ নাগাদ জয়সালমীর-যোধপুর হাইওয়ে ধরে যাওয়ার সময় এসি স্লিপার বাসটিতে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বাসের পিছনের দিক থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হতে শুরু করে এবং যাত্রীরা নামার আগেই মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো বাসটিকে গ্রাস করে ফেলে, যার ফলে এই ভয়ানক দুর্ঘটনা ঘটে।