“আমরা কিছু করব না”-যুদ্ধের আগেই ‘যুদ্ধবিরতি’-র ঘোষণা করলেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী

পাকিস্তানের মাটিতে ভারতের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর প্রাথমিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং কঠোর প্রতিশোধের হুমকি দিলেও, সময়ের সাথে সাথে পাকিস্তানের সুর কিছুটা নরম হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই অভিযানের অধীনে ভারতীয় সামরিক বাহিনী জৈশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈবার সদর দফতর সহ মোট ৯টি সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং এতে প্রায় ৯০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
ভারতের এই আক্রমণকে প্রাথমিকভাবে দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়েছিল পাকিস্তানে। যদিও ‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই’ পাকিস্তান যেন একপ্রকার উত্তেজনা প্রশমনের বা যুদ্ধ এড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে বসেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা নিজেদের রক্ষা করব।”
ভারতের হামলার পর খাজা আসিফ প্রথমদিকে দাবি করেন যে ভারত সাধারণ নাগরিকের বসবাসকারী এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে (যদিও ভারত এই দাবি অস্বীকার করেছে)। তিনি আরও বলেন, “ভারত তাদের আকাশসীমা থেকে পাকিস্তানি এলাকায় এই হামলা চালিয়েছে।” এমনকি তিনি জোরের সঙ্গে বলেন, “এর উপযুক্ত জবাব দেব।” কিন্তু পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের সেই কঠোর এবং উপযুক্ত জবাব দেওয়ার ‘অহংকার’ যেন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উধাও হয়ে যায়। পরে তিনি বলতে শুরু করেছেন, “ভারত যদি অন্য কোনও পদক্ষেপ না নেয় তবে আমরাও কিছু করব না।” এই পরিবর্তন পাকিস্তানের উপর ভারতের অভিযানের মানসিক চাপকেই ইঙ্গিত করে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অবশ্য প্রথমদিকে আরও কড়া সুর বজায় রেখেছিলেন। তিনি বলেন যে ভারতের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের কড়া জবাব দেওয়ার অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীও এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল যে তারা ভারতের পদক্ষেপের জবাব দেবে। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী ভারতীয় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং বলেছেন যে বাহাওয়ালপুর, কোটলি এবং মুজাফ্ফরাবাদে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এটিকে ‘উস্কানি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে এর জবাব দেওয়া হবে। তবে তিনি জানান, পাকিস্তান তার পছন্দের সময় এবং স্থানে এর জবাব দেবে, যা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার অভাবকেই নির্দেশ করে।
সামগ্রিকভাবে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আসা বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া কিছুটা বিভ্রান্তিকর। একদিকে কঠোর প্রতিশোধের হুমকি এবং অন্যদিকে উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত – এই দ্বিচারিতা ভারতের সামরিক এবং কৌশলগত সাফল্যের পর পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ চাপকেই প্রতিফলিত করে। যদিও পাকিস্তানের সেনাবাহিনী হামলার কথা স্বীকার করে নিয়েছে, কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো পাল্টা পদক্ষেপ না নেওয়াটা ভারতের কৌশলগত সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।