উদ্বেগজনক পরিস্থিতি যাদবপুরে: বহিরাগতদের প্রবেশ ও সহিংসতার অভিযোগে জুটার অর্ধদিবস কর্মবিরতি!

গত কয়েকদিনে পর পর অশান্তি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আবারও সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)। এই সমস্ত ঘটনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ প্রতীকে হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের একাংশ। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে পরিকল্পিতভাবে নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।
জুটার অর্ধদিবস কর্মবিরতি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ঘটনার সঙ্গে ঠিক কারা জড়িত, কীভাবে বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করল এবং তাদের প্রবেশে কারও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি তোলা হয়েছে। এই দাবিকে সামনে রেখেই শুক্রবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (JUTA)-র তরফে অর্ধদিবস কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়। দিনের দ্বিতীয় পর্বে শিক্ষকরা অরবিন্দ ভবনের ভেতরে অবস্থান বিক্ষোভে অংশ নেন।
শিক্ষক ও অধ্যাপকদের প্রতিক্রিয়া
এ দিন যাদবপুরের অধ্যাপক নন্দিনী মুখোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও মুক্তচর্চার পরিসরকে মারাত্মকভাবে আঘাত করেছে। তাঁর কথায়, অতীতে নানা ধরনের ছাত্র বিক্ষোভ বা অন্যান্য পরিস্থিতি দেখা গেলেও গত কয়েকদিনের হিংসাত্মক ঘটনা অতীতের সমস্ত অভিজ্ঞতাকে ছাপিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট ভাঙচুর এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্রের বক্তব্যে উঠে আসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বশাসনের প্রসঙ্গ। তাঁর অভিযোগ, অতীতেও দেশের সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মুক্তচিন্তার পরিসরকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে, আবারও সেই একই কায়দায় দখলের অপচেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক উপায়ে প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হয়ে রাতের অন্ধকারে বহিরাগতদের ঢুকিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
ঐতিহ্যে আঘাত ও সিসিটিভি ফুটেজ তলব
জুটার অপর সদস্য পার্থপ্রতিম রায় অভিযোগ করেন যে, গত ২০ অগস্ট মধ্যরাতের পর বহিরাগতদের একটি দল জোর করে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী চার নম্বর গেটের কাছে থাকা এমব্লেম বা প্রতীকে ভাঙচুর চালানো হয়, যা শুধুমাত্র সম্পত্তি নষ্ট নয়, বরং যাদবপুরের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপর সরাসরি আঘাত। উল্লেখ্য, এই প্রতীকের নকশার সঙ্গে শিল্পী নন্দলাল বসুর নামও জড়িয়ে রয়েছে।
ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক প্রতিনিধিরা। তাঁরা স্পষ্ট জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। সুতরাং, ফুটেজ খতিয়ে দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে কারা, কোন গেট দিয়ে এবং কার সহায়তায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকাও এই তদন্তের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন তাঁরা।