ভারতীয় দালাল ধরে যাচ্ছিলেন দেশের পথে, গ্রেপ্তার হলেন সাত বাংলাদেশি

নদিয়া জেলার হাঁসখালি থানা এলাকা থেকে দালাল ধরে সীমান্ত পেরিয়ে নিজেদের দেশে (বাংলাদেশে) ফিরে যাওয়ার চেষ্টাকালে তিন মহিলাসহ সাত বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার একজন বাংলাদেশি তরুণী একই এলাকায় গ্রেফতার হওয়ার পর শনিবার এই নতুন করে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটল।
শনিবার সকালে হাঁসখালি থানার রামনগর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বটতলা এলাকা থেকে ওই সাতজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। রানাঘাট জেলা পুলিশের ডিএসপি (বর্ডার) সোমনাথ ঝা জানিয়েছেন, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা প্রায় তিন থেকে চার বছর আগে উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত ব্যবহার করে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর তারা মুম্বই, গুজরাট এবং দিল্লির মতো বড় শহরগুলিতে চলে যান। এখন তারা ভারতীয় দালালদের সহায়তায় সীমান্ত টপকে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছিলেন, তখনই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার একই গ্রাম পঞ্চায়েতের নিমতলা বাজার মোড় থেকে ফরিদা খাতুন নামে এক বাংলাদেশি তরুণীকে গ্রেফতার করেছিল হাঁসখালি থানা পুলিশ। ফরিদার বাড়ি ছিল বাংলাদেশের যশোহরের জিগুরগাছি এলাকায়। জিজ্ঞাসাবাদে ৩৫ বছর বয়সী ফরিদা জানান, প্রায় আট মাস আগে তিনি উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে ঢুকেছিলেন এবং মুম্বইতে ছিলেন। দালাল ধরে দেশে ফেরার সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি।
পুলিশ সূত্রে শনিবার ধৃত সাতজনের পরিচয় জানা গেছে:
শেখ আক্তার, তার স্ত্রী হীরা বেগম এবং তাদের ১৮ বছর বয়সী ছেলে শেখ ইসমাইল (বাড়ি: খুলনা জেলার বাতিয়াগাতা থানা এলাকা)।
মহম্মদ সাহেব আলি মণ্ডল এবং তার স্ত্রী সীমা বেগম (বাড়ি: যশোহরের শার্শা থানা এলাকা)।
মনিরুল সিদ্দিকি (বাড়ি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর)।
অমিয়া খাতুন (বাড়ি: কক্সবাজার থানা এলাকা)।
রানাঘাট পুলিশ জেলার অন্তর্গত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী তিনটি থানা, হাঁসখালি, ধানতলা এবং গাংনাপুরের পুলিশ গত নভেম্বর মাস থেকে অন্যান্য স্বাভাবিক কাজের পাশাপাশি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং অবৈধভাবে বসবাসকারীদের ধরতে বিশেষভাবে তৎপর হয়েছে। এই লাগাতার অভিযানের ফলে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই একাধিক অনুপ্রবেশকারী পুলিশের জালে ধরা পড়ছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পারাপার এখনও একটি বড় সমস্যা এবং পুলিশ এটি রুখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।