DA-সহ মাইনে ঢোকা শুরু ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের, চাকরিহারাদের মনে খানিক স্বস্তি, তবে….?

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারালেও আইনি প্রক্রিয়ায় ‘যোগ্য’ বিবেচিত হওয়া রাজ্যের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এপ্রিল মাসের বেতন দেওয়া শুরু হয়েছে। বুধবার দুপুরের পর থেকে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেতন জমা হওয়ার বার্তা আসতে শুরু করে, সঙ্গে রয়েছে রাজ্য সরকারের ঘোষিত অতিরিক্ত ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতাও (DA)। হাজারো অনিশ্চয়তার মধ্যে বেতন হাতে পাওয়াটা কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় উদ্বেগ কিন্তু থেকেই যাচ্ছে, বিশেষ করে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের পর কী হবে, সেই চিন্তা গ্রাস করছে তাঁদের।

জানা গেছে, শুধুমাত্র ‘যোগ্য’ বিবেচিত শিক্ষকদের তালিকাতেই যাদের নাম রয়েছে, তারাই আপাতত বেতন পাচ্ছেন। প্রধান শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে এই বেতন ক্রেডিট হচ্ছে এবং গত ২৮ এপ্রিলের মধ্যেই বেতনের জন্য প্রয়োজনীয় রিকুইজিশন জমা দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার কয়েকটি মহকুমার ২০১৬ সালে চাকরি হারানো কিছু ‘যোগ্য’ শিক্ষকের বেতন জমা হয়েছে বলে খবর।

তবে, বর্ধিত ডিএ সহ বেতন হাতে পেয়েও পশ্চিম মেদিনীপুরের বেশ কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা জানিয়েছেন, তাঁরা পুরোপুরি দুশ্চিন্তা মুক্ত হতে পারছেন না। মকরামপুর ভদ্রকালী গান্ধী বিদ্যাপীঠের গণিত শিক্ষক অভিজিৎ গিরি এবং কেশপুরের আন্দিচক হাইস্কুলের পদার্থবিদ্যা শিক্ষক অতনু দত্ত একই সুরে বলেন, “সামান্য স্বস্তি অবশ্যই, কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা কাটছে না। একটাই প্রশ্ন, ৩১ ডিসেম্বরের পর কী হবে?” উত্তর ২৪ পরগনার শিক্ষিকা স্বর্ণালী চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়াও একই রকম, “বেতন পেলাম ঠিকই, কিন্তু এটা তো সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।” তাঁদের সকলেরই একটাই দাবি, তাঁদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পাওয়া চাকরি স্থায়ীকরণ করা হোক, কারণ বিভিন্ন স্তরে তাঁদের যোগ্যতা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্য বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করা হয়েছিল। মঙ্গলবার থেকেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের একটি বড় অংশ এই বর্ধিত ডিএ সমেত তাঁদের এপ্রিল মাসের বেতন পেয়েছেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকারাও এই মাসের বেতন এবং বর্ধিত ডিএ হাতে পেলেন। তবে অন্যান্য সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে চাকরির ধারাবাহিকতা থাকলেও, এই শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ এখনও সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল, যা তাঁদের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।