প্লে-অফের দৌড়ে বেশ পিছিয়ে দল, গম্ভীরহীন দলে অসন্তোষের মেঘ, কোচের সঙ্গে তারকার মতবিরোধ

গত মরশুমে যারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে আইপিএল খেতাব জিতেছিল, সেই কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) এ মরশুমে তাদের সেই দাপট ধরে রাখতে পারেনি। defending champions হিসেবে তারা ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগছে এবং তাদের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না। এর মাঝে দলের অন্দরের পরিবেশও খুব একটা স্বাভাবিক নেই বলে শোনা যাচ্ছে।
টিম ইন্ডিয়া হোক বা আইপিএলের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি, যখন খারাপ সময় চলে তখন দলের অন্দরের পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন ঝগড়া বা অসন্তোষের কানাঘুষো শোনা যায়। যেমনটা বর্ডার-গাওস্কর ট্রফির সময় ভারতীয় দলের সাজঘর নিয়ে নানা খবর রটেছিল, বা গত মরশুমে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের দল দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার কথা শোনা গিয়েছিল। কেকেআর শিবির নিয়েও অনেকটা তেমনই বিষয় সামনে আসছে।
গত মরশুমে গৌতম গম্ভীর কেকেআর-এর মেন্টর ছিলেন এবং শিরোপা জয়ের পেছনে তার বড় অবদান ছিল বলে মনে করা হয়। তবে দলের হেড কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত ততটা পাদপ্রদীপের আলোয় আসেননি। এ মরশুমে গম্ভীর ভারতীয় দলের দায়িত্বে চলে যাওয়ায়, কেকেআর-এর প্রধান দায়িত্ব এখন চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের (Chandrakant Pandit) হাতেই। কিন্তু কোচ হিসেবে তার দলকে সামলানো বা তার নেতৃত্ব নিয়ে দলের অনেকের মধ্যেই নাকি অসন্তোষ রয়েছে।
অনেকের মতে, গত বারের চ্যাম্পিয়ন দলকে এবারের মাঠে সেই উদ্যম বা আগ্রাসন নিয়ে নামতে দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যেই রিপোর্টে পণ্ডিতের সঙ্গে দলের এক তারকা ক্রিকেটারের মতভেদের খবর উঠে এসেছে। জানা গেছে, একটি ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের একজন ক্রিকেটারের (যিনি তার জাতীয় দলেরও সতীর্থ) সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটাতে চেয়েছিলেন কেকেআরের এক তারকা খেলোয়াড়। কিন্তু কোচ পণ্ডিত তাকে বাধা দেন। আইপিএলে তারা প্রতিপক্ষ হলেও জাতীয় দলে তারা সতীর্থ – এই বিষয়টি হয়তো পণ্ডিতের মাথায় ছিল না, অথবা তিনি এটিকে অনুমোদন করেননি। এই ঘটনাটি ওই ক্রিকেটারের কাছে খুব একটা ভাল লাগেনি এবং এর ফলেই কেকেআর কোচের সাথে তার মতবিরোধ এবং হালকা বিবাদ হয় বলে খবর।
প্রসঙ্গত, টানা তিন ম্যাচ হারের পর কেকেআর তাদের শেষ ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ১৪ রানে পরাজিত করে জয়ের ধারায় ফিরেছে। তবে প্লে-অফে পৌঁছতে হলে তাদের নিজেদের বাকি ম্যাচগুলিও জিততে হবে, যা তাদের জন্য এখনও বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ। গতবারের চ্যাম্পিয়নরা এই কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কিছু (virtually অসাধ্য সাধন) করতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয় হতে চলেছে।