“ওরা যত বেশি পড়ে, তত বেশি জানে, তত কম মানে!”—আমেরিকার শিক্ষা দপ্তর তুলে দিচ্ছেন ট্রাম্প

‘ওরা যত বেশি পড়ে, তত বেশি জানে, তত কম মানে’—সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’র এই বিখ্যাত সংলাপ যেন আমেরিকার মাটিতে সত্যি হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার শিক্ষা দপ্তরকে পুরোপুরি বাতিলের দিকে এক বড় পদক্ষেপ নিলেন। তাঁর নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে প্রাদেশিক সরকারগুলির হাতে। ফলে মার্কিন শিক্ষা দপ্তর নামে আর কোনও সংস্থা থাকবে না।
হোয়াইট হাউসে ঘোষণা
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে উপস্থিত ছিলেন বহু শিক্ষার্থী। তাদের সামনেই ট্রাম্প এই নতুন নির্দেশিকায় সই করেন। সই শেষে হাসিমুখে তিনি আদেশপত্রটি তুলে ধরে বলেন, “আমরা চাই শিক্ষা দপ্তর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বন্ধ হয়ে যাক। আগের দিনে যেমন প্রাদেশিক সরকারগুলি শিক্ষার দায়িত্ব নিত, আমরা সেই ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চাই।” ট্রাম্পের দাবি, এই পদক্ষেপ আমেরিকার শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে। তিনি মনে করেন, চিন ও ইউরোপের শিক্ষাব্যবস্থা আমেরিকাকে অনেকটা পিছনে ফেলে দিয়েছে, এবং এই সিদ্ধান্ত তার প্রতিকার হবে।
শিক্ষা দপ্তরের ভবিষ্যৎ
১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আমেরিকার শিক্ষা দপ্তর এতদিন ধরে শিক্ষার্থীদের জন্য অনুদান, শিক্ষাকর্মীদের বেতন ও শিক্ষানীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু ট্রাম্পের নতুন নির্দেশে আপাতত শিক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় অনুদান ও শিক্ষাকর্মীদের বেতন বন্ধ রাখা হবে। শিক্ষাসচিব লিন্ডা ম্যাকমোহনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দপ্তর বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং শিক্ষার দায়িত্ব দ্রুত প্রাদেশিক সরকারের হাতে তুলে দিতে।
তবে এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কার্যকর করতে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন আবশ্যক। কংগ্রেসের সম্মতি না মিললে শিক্ষা দপ্তর আইনত বাতিল করা সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের খরচ কমানোর তীব্র প্রচেষ্টার ফলেই শিক্ষা দপ্তর এই সংকটের মুখে পড়েছে।
সমর্থন ও সমালোচনা
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। তাঁর সমর্থকরা বলছেন, এতে প্রাদেশিক সরকারগুলি নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে। কিন্তু সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ না থাকলে শিক্ষার মানে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শেষ কথা
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত আমেরিকার শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। প্রাদেশিক সরকারগুলি এই দায়িত্ব কীভাবে পালন করে এবং এর ফল কী হয়, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।