অতীত ভুলে দ্বিতীয়বার বিয়ে, বন্ধুর বিয়েতে ফের প্রাক্তনের সঙ্গে একফ্রেমে অয়ন্তিকা

জনপ্রিয় রেডিও জকি ও সঞ্চালিকা আরজে অয়ন্তিকা সম্প্রতি জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। জানুয়ারির শেষেই তিনি দ্বিতীয়বারের জন্য বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে প্রাক্তন স্বামী, সঙ্গীত পরিচালক নীলায়ন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে বরাবরই এক স্বচ্ছতা রেখেছেন তিনি। তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হলেও, মেয়েকে একসঙ্গে মানুষ করছেন তাঁরা। আর সেই প্রমাণ আরও একবার সামনে এল, যখন এক বন্ধুর বিয়েতে আবারও এক ফ্রেমে দেখা গেল প্রাক্তন দম্পতিকে।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি ছিল অয়ন্তিকা ও নীলায়নের এক কমন বন্ধুর বিয়ে। সেই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন অয়ন্তিকা, তাঁর বর্তমান স্বামী হিরজিত, প্রাক্তন স্বামী নীলায়ন, এবং তাঁদের অন্যান্য বন্ধুরা। অনুষ্ঠানের বেশ কিছু মুহূর্ত শেয়ার করেন অয়ন্তিকা নিজেই। এক ছবিতে দেখা যায়, নবদম্পতির সঙ্গে তিনি ও হিরজিত দাঁড়িয়ে রয়েছেন, পাশেই নীলায়নও উপস্থিত। ছবির ক্যাপশনে অয়ন্তিকা লেখেন—
“বন্ধু মানে এই আড়ি এই ভাব, বন্ধু মানে এক নিমেষে অভিমান ভুলে যেতে পারি। বন্ধু মানে হাফ প্যান্ট থেকে শাড়ি, বন্ধু মানে পিএনপিসি কাড়ি কাড়ি।”
এই পোস্ট থেকেই বোঝা যায়, ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমীকরণ যতই বদলাক না কেন, বন্ধুত্ব অটুট থাকে।
অন্যদিকে, বিয়ের এই আনন্দমুখর মুহূর্তে মজার ছলে একটি ছবি পোস্ট করেন নীলায়ন চট্টোপাধ্যায়। ছবিতে দেখা যায়, তাঁর এক বন্ধু তাঁকে টোপর পরাতে চাইছেন। সেই ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন—
“তুই করছিস কর, আমাকে আর টানিস না।”
এই রসিকতাপূর্ণ ক্যাপশন নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যেও বেশ চর্চা শুরু হয়।
অয়ন্তিকা ও নীলায়নের প্রেমের গল্প শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে, যখন এক পারফরম্যান্সের সময় তাঁদের প্রথম দেখা হয়। এরপরই বিয়ে করেন তাঁরা। যদিও পরবর্তী সময়ে তাঁদের সম্পর্কে দূরত্ব বাড়তে থাকে এবং শেষমেশ তাঁরা আলাদা হয়ে যান। তবে কবে তাঁদের বিচ্ছেদ হয় বা কী কারণে সম্পর্ক ভেঙে যায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।
তাঁদের একমাত্র মেয়ে দুনি মায়ের সঙ্গেই থাকে। তবে বাবা-মায়ের আলাদা থাকার প্রভাব যাতে সন্তানের উপর না পড়ে, সেই বিষয়েও দু’জনেই যথেষ্ট যত্নবান।
সম্প্রতি হিরজিতের সঙ্গে বিয়ের ছবি শেয়ার করে অয়ন্তিকা লিখেছিলেন— “আজ থেকে আমরা একসঙ্গে।” মেয়েকে নিয়েই নতুন দাম্পত্য জীবন শুরু করেছেন তিনি।
এই বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া প্রমাণ করে, সম্পর্ক যতই বদলায়, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থাকলে বন্ধন কখনও পুরোপুরি ভেঙে যায় না।