রমজানের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, চরম সংকটে বাংলাদেশ!

আর কয়েকদিন পরেই শুরু হবে পবিত্র রমজান মাস। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য এটি সংযম, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মাস। কিন্তু বাংলাদেশে রমজান শুরু হওয়ার আগেই সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কারণ, বাজারে লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম এমনভাবে বেড়েছে যে, মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত সবাই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
ঢাকা থেকে রংপুর— বাংলাদেশের সর্বত্রই বাজারে খাদ্যদ্রব্যের আকাশছোঁয়া দাম। খেজুর, ছোলা, চিনিসহ ইফতারের অত্যাবশ্যকীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য সাধারণ মানুষকে এখন থেকেই বাজেট কাটছাঁট করতে হচ্ছে। ঢাকার তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কামারুজ্জামান খান বলেন, “ফল ও মাংস কেনা কমাতে বাধ্য হচ্ছি। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ, তাই ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছে।”
রংপুরের বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা রাবেয়া আক্তার জানান, “পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আমি। বেতন ৪০ হাজার টাকা, যা এখন সংসারের খরচ মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। রমজানের কেনাকাটা করবো কীভাবে?”
কেন এত দাম বাড়ছে?
নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। পাইকারি ও খুচরো বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে একটি শক্তিশালী “সিন্ডিকেট” সক্রিয় রয়েছে, যারা পরিকল্পিতভাবে দাম বাড়াচ্ছে। এই সিন্ডিকেট ভেঙে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
ঢাকার বাজারের বর্তমান চিত্র
খেজুর: প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ১,৭০০ টাকা
ছোলা: প্রতি কেজি ১১০ টাকা
প্যাকেটজাত চিনি: প্রতি কেজি ১৭০ টাকা
সয়াবিন তেল: প্রতি লিটার ১৭৫ টাকা
গত বছরের তুলনায় খাদ্যদ্রব্যের দাম ২৫% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের উপর বিশাল চাপ ফেলছে।
বাংলাদেশের ভোক্তা অধিকার সংস্থা কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (CAB)-এর সহ-সভাপতি এসএম নজর হোসেন বলেন, “সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন সত্ত্বেও, বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব রয়ে গিয়েছে। তারা কেবল তাদের পদ্ধতি পরিবর্তন করেছে, কিন্তু এখনো দামের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।”
ক্যাবের প্রস্তাব, আমদানি থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যতদিন তা না হচ্ছে, ততদিন সাধারণ জনগণকে এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির শিকার হতে হবে।
রমজানের আগেই বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবি
রমজান মাস সাধারণত বাংলাদেশে বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির সময়। ব্যবসায়ীদের অনেকে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দাম বাড়িয়ে দেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সাধারণ জনগণ চাইছেন, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করুক এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করুক, যাতে তারা স্বস্তিতে রমজানের প্রস্তুতি নিতে পারেন।
সরকার কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, রমজানের আগেই বাংলাদেশে মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।