সাইবার জালিয়াতির ‘ক্যান্সার’ ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে!-সকলকে সতর্ক করল জাতিসংঘ

বিশ্বজুড়ে শত শত কোটি ডলারের সাইবারস্ক্যাম বা অনলাইন জালিয়াতির এক ভয়াবহ মহামারী ছড়িয়ে পড়ছে, যা ক্যান্সারের মতো দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। প্রতি বছর এই জালিয়াতি থেকে শত শত কোটি ডলার মুনাফা করছে অপরাধী চক্রগুলি। জাতিসংঘের এক নতুন প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগজনক সতর্কবার্তা উঠে এসেছে। মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে উদ্ভূত বিভিন্ন অপরাধ সিন্ডিকেট এখন দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা সহ বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও তাদের জাল ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
সোমবার প্রকাশিত জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ দমন অফিস বা ইউএনওডিসি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যে শক্তিশালী অপরাধ নেটওয়ার্কের উদ্ভব হয়েছে, সেখানে হাজার হাজার কর্মীর বাস। এদের মধ্যে অনেকে বিশ্বজুড়ে পাচার ও প্রতারণার শিকার হয়ে এই কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছেন। এটি একটি অত্যন্ত পরিশীলিত বৈশ্বিক কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সরকার দমন-পীড়ন জোরদার করলেও এসব সিন্ডিকেট ওই অঞ্চলের ভেতরে এবং বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইউএনওডিসি উল্লেখ করেছে, “এদের অপরিবর্তনীয় বিস্তার ঘটেছে… বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীকে প্রয়োজন অনুসারে বাছাই, পছন্দ ও অন্য কোথাও পাঠানোর জন্য স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে”।
ইউএনওডিসি’র আঞ্চলিক বিশ্লেষক জন ওজসিক এই পরিস্থিতিকে তুলনা করে বলেছেন, “এটি ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেবল একটি অঞ্চলেই এর চিকিৎসা করছে। তবে এর শিকড় অনেক গভীরে, যা কখনই দেখা যায় না; কেবল জায়গা বদলায়।” তিনি বলেছেন, “আঞ্চলিক সাইবার জালিয়াতি শিল্প… অন্যান্য আন্তর্জাতিক অপরাধকেও ছাড়িয়ে গেছে। কারণ এটি সহজেই বাড়তে পারে এবং সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ পণ্য পরিবহন বা পাচারের প্রয়োজন ছাড়াই অনলাইনে লাখ লাখ সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর কাছে পৌঁছে যেতে পারে এরা।”
ইউএনওডিসি বলছে, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে বড় আকারের শত শত জালিয়াতি কোম্পানি, যা থেকে বছরে শত শত কোটি ডলার মুনাফা করছে তারা। ২০২৩ সালে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই ক্রিপ্টোকারেন্সি কেলেঙ্কারিতে পাঁচশ ষাট কোটি ডলারেরও বেশি আর্থিক ক্ষতির কথা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চল্লিশ লক্ষ ডলারেরও বেশি ছিল ‘পিগ স্ক্যাম’ বা রোমান্স স্ক্যামের মাধ্যমে প্রতারণা। এসব সাইবার জালিয়াতিকে বিশেষত বয়স্ক ও দুর্বল ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য তৈরি করা হয়।
জাতিসংঘ এই ভয়াবহ সাইবারস্ক্যাম ঠেকাতে বিশ্বের সব দেশকে একসঙ্গে কাজ করার এবং এসব চক্রের অর্থায়নে বাধা দেওয়ার জন্য জোরদার আহ্বান জানাচ্ছে। সাইবার অপরাধের এই ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক হুমকির মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।