“ঘাড়ের শিরা কেটে কীভাবে মৃত্যু হয়?”-স্বামীকে খুনের আগে Google Search এ যা করেছিল স্ত্রী?

কর্নাটকের অবসরপ্রাপ্ত ডিজিপি ওম প্রকাশ হত্যাকাণ্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে তদন্তে। এই নৃশংস খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত, মৃত ডিজিপির স্ত্রী পল্লবী, নাকি খুনের ঠিক আগে ইন্টারনেটে ‘ঘাড়ের শিরা ও রক্তনালী কেটে কীভাবে মৃত্যু হয়’ তা নিয়ে পাঁচ দিন ধরে খোঁজ করেছিলেন। পুলিশ সূত্রে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে এসেছে।

পুলিশ দাবি করছে, অভিযুক্ত পল্লবীর গুগল সার্চ হিস্ট্রি খতিয়ে দেখা গেছে যে এই খুন ছিল পূর্বপরিকল্পিত। খুনের অন্তত পাঁচ দিন আগে থেকে তিনি এই ধরনের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছিলেন ইন্টারনেটে।

শুধু তাই নয়, তদন্তে উঠে এসেছে যে পল্লবী বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিজের পরিস্থিতি নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে তিনি নিজের বাড়িতেই কার্যত বন্দি, ক্রমাগত নজরদারির মধ্যে রয়েছেন এবং তাঁর খাওয়াদাওয়ায় বিষ মেশানো হচ্ছে বলে তিনি সন্দেহ করছেন। এছাড়াও, মেয়ের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমবার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে পেশ করা হলে পল্লবীকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর মেয়ে কৃতি বর্তমানে মানসিক মূল্যায়নের জন্য বেঙ্গালুরুর একটি কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছেন।

ঘটনার পর মৃত ডিজিপির দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর পেটে এবং বুকে একাধিক গভীর ক্ষতচিহ্ন ছিল। এই খুনের মামলায় শুরু থেকেই সন্দেহভাজনের তালিকায় ছিলেন ওম প্রকাশের স্ত্রী পল্লবী। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই রবিবার রাত থেকে পুলিশ লাগাতার পল্লবী এবং ওমের কন্যা কৃতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপরই মৃত ডিজিপির পুত্র কার্তিকেশ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, মা পল্লবী এবং বোন কৃতিই তাঁর বাবাকে খুন করেছেন। কার্তিকেশ আরও জানান যে তাঁর বাবাকে এর আগেও খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

এই ঘটনায় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। পল্লবীর অনলাইন সার্চ হিস্ট্রি এবং হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মেয়ের মানসিক মূল্যায়নের রিপোর্টও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।