পিএইচডি ও এমএ ডিগ্রির ভুয়ো শংসাপত্র? দুর্নীতিতে রাশ টানতে চালু কিউআর কোড

রাজ্য অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তর গত দেড় বছরে প্রায় ১৪০০টি ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র বাতিল করেছে। যদিও অভিযোগ এসেছিল প্রায় ৩৬ হাজার শংসাপত্রের বিরুদ্ধে। বাতিল হওয়া এই শংসাপত্রগুলি দু’বছর আগে জমা দেওয়া হয়েছিল।
ভুয়ো শংসাপত্রের দৌরাত্ম্য কমাতে বিশেষ পদক্ষেপ হিসেবে সম্প্রতি সার্টিফিকেটে কিউআর কোড যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগে হাতে লিখে শংসাপত্র দেওয়ার প্রচলন থাকায় জাল করা তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল।
ইতিমধ্যেই ভুয়ো শংসাপত্র কেলেঙ্কারিতে খড়গপুর ও ব্যারাকপুরের ব্লক স্তরের দুই ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার ব্যাকওয়ার্ড ওয়েলফেয়ার অফিসারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো-কজ) ধরানো হয়েছে এবং তাঁদের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ওই দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে ভুয়ো শংসাপত্র দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে দপ্তর। আরও কয়েকজন আধিকারিক বর্তমানে দপ্তরের নজরে রয়েছেন এবং তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে পুলিশের কাছেও একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। এই অভিযোগগুলির অধিকাংশই কর্মরত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) কাছে পুলিশ বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠানোর পর কমিশন জাতিগত শংসাপত্র যাচাইয়ের জন্য অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তরে পাঠায়। শুধু তাই নয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ও তাদের পিএইচডি ও এমএ ডিগ্রিপ্রাপ্ত ৪৫ জন ছাত্র-ছাত্রীর জাতিগত শংসাপত্র যাচাইয়ের জন্য অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তরে পাঠিয়েছে। এর ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ভুয়ো শংসাপত্র ব্যবহার করে ভর্তির বিষয়টি সামনে আসছে। দপ্তর সূত্রে খবর, বাতিল হওয়া শংসাপত্রগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষকদের এবং উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের। এই ঘটনার তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে এবং জালিয়াতি চক্রের মূলোৎপাটনে দপ্তর বদ্ধপরিকর।