অনলাইন যুগেও ইদের আগে বাজারে দেদার বিক্রি, দোকানে ভিড় দেখে খুশি ব্যবসায়ীরা

অনলাইন কেনাকাটার সুবিধা এবং হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও, ইদের আগে পূর্ব মেদিনীপুরের চেনা বাজারগুলিতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেল। শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত তমলুক-পাঁশকুড়া রাজ্য সড়কে এতটাই ভিড় ছিল যে, দফায় দফায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
ইদের আগমন দরজায় কড়া নাড়ছে, আর তার আগেই বাজারগুলিতে উৎসবের আমেজ। ফল থেকে সেমুই, পোশাক থেকে আতর—প্রায় প্রতিটি দোকানেই ছিল তিল ধারণের জায়গা নেই। তমলুকের রাধামণি বাজার এদিন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। পূর্ব মেদিনীপুরের প্রায় প্রতিটি বাজারেই কমবেশি একই চিত্র দেখা গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল তমলুকের রাধামণি বাজারে, যেখানে তিন-চারটি জেলার মানুষ পোশাক কেনার জন্য ভিড় জমান।
অনলাইন মার্কেটিংয়ের এই যুগেও এত মানুষের ভিড় দেখে আশার আলো দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, রাধামণি বাজারে ইদের কেনাকাটায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা সুতির ছাপা শাড়ির। ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ৭০০ টাকার মধ্যে শাড়ি এদিন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও, লুঙ্গি ও সাদা টুপিরও ভালো চাহিদা ছিল। তবে এবারের ইদের বাজারে বিশেষ নজর কেড়েছে—জিমি চু।
জিমি চু শুনে প্রথমে অবাক হলেও, এক ব্যবসায়ী হেসে জানান, পাথর বসানো জিমি চু শাড়ি এবার ইদের বাজারে নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ড। কাকদ্বীপ থেকে রাধামণিতে ইদের কেনাকাটা করতে আসা বিলকিস বেগম জানান, “ইদে অনেক পোশাক কিনতে হয়। স্থানীয় বাজারে দাম একটু বেশি। তাই লঞ্চে নদী পেরিয়ে রাধামণি এসেছি। মন খুলে বাজার করেছি।”
তবে প্রতিবেশী জেলা ঝাড়গ্রামের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। ঝাড়গ্রাম জেলা সদরের জুবলি মার্কেট থেকে শুরু করে ব্লক সদরের বাজারগুলিতে ভিড় থাকলেও, ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তাঁরা আরও বেশি ভিড় প্রত্যাশা করেছিলেন। ঝাড়গ্রাম শহরের বস্ত্র ব্যবসায়ী শেখ আব্দুল হালিম বলেন, “এবারে বাজার তেমন ভালো নয়। বেশিরভাগ লোকজন কেনাকাটার জন্য অনলাইন অথবা শপিং মল বেছে নিচ্ছেন। প্রচণ্ড গরমের কারণেও লোকজন একটু কম আসছেন।” যদিও ঝাড়গ্রাম শহরের একাধিক শপিং মলে বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সব মিলিয়ে, ইদের আগে পূর্ব মেদিনীপুরের বাজারগুলিতে উৎসবের আমেজ স্পষ্ট, যেখানে অনলাইন কেনাকাটার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও মানুষজন চেনা বাজারেই ভিড় করছেন। তবে ঝাড়গ্রামের ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও ভিড় কম হওয়ার কারণে হতাশ।