বয়স তিরিশের কোঠা পেরোলেই মহিলাদের এই বিষয়টি অবশ্যই জানা দরকার, অজান্তেই বড় বিপদ ডাকছেন না তো?

মহিলাদের জীবনের একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক পর্যায় হলো মেনোপজ, যার অর্থ টানা ১২ মাস মাসিক সম্পূর্ণ বন্ধ থাকা। তবে এই পর্যায় শুরু হওয়ার ঠিক আগেই নারীদের শরীর পেরিমেনোপজ (Perimenopause) নামক একটি ধাপের মধ্য দিয়ে যায়। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সম্পর্কে এখনও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা অনেকটাই কম। এই বিষয়টির বিশদ বিবরণ এবং শরীরের ওপর এর প্রভাব নিয়ে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রুচি ভান্ডারী কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেনোপজ শুরু হওয়ার বহু আগে থেকেই শরীরে হরমোনের ওঠানামা শুরু হয়ে যায়। এই বিশেষ সময়টিতে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের মতো প্রধান হরমোনগুলোর মাত্রা অনিয়মিতভাবে কমতে বা বাড়তে থাকে। এর ফলে মাসিকের চক্রে বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়াও শরীরে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে।
পেরিমেনোপজের প্রধান লক্ষণগুলি কী কী?
-
অনিয়মিত মাসিক: এই দশার সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো পিরিয়ডের সময়ের গণ্ডগোল। কখনো নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগে, আবার কখনো কয়েক সপ্তাহ বা মাস দেরিতে মাসিক হতে পারে। এছাড়া রক্তপাতের পরিমাণেও তারতম্য দেখা দেয়।
-
শারীরিক অস্বস্তি: হঠাৎ করে শরীর গরম হয়ে যাওয়া (হট ফ্ল্যাশ), রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
-
মন-মেজাজের পরিবর্তন: কথায় কথায় খিটখিটে মেজাজ, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মুড সুইং এবং কোনো কাজে মনোযোগের অভাব এই সময়ের সাধারণ লক্ষণ।
-
অন্যান্য উপসর্গ: অনেক নারী যোনিপথের শুষ্কতা, ত্বকের গঠন পরিবর্তন এবং ওজন বৃদ্ধি বা শারীরিক গঠনে পরিবর্তনের মতো সমস্যাও অনুভব করে থাকেন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে মহিলাদের নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক চাপ মুক্ত থাকা এই সময়ে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। একইসঙ্গে এই বয়সে হরমোনের প্রতিটি পরিবর্তনকেই কোনো রোগ বা অসুস্থতা বলে ধরে নেওয়া ভুল। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে উপসর্গ অনুযায়ী সঠিক পদক্ষেপ করা উচিত। যদি অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক রক্তপাত হয় কিংবা দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এর মারাত্মক প্রভাব পড়ে, তবে কালবিলম্ব না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া একান্ত প্রয়োজন।