মোদীর আমন্ত্রণে রাজধানী কাঁপাতে আসছে বিশ্ব নেতারা! ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা ও চাঞ্চল্য

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক ‘ভারত মণ্ডপম’-এ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে অষ্টাদশ ব্রিকস (BRICS) সম্মেলন। ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বিশ্বের ১১টি সদস্য দেশের রাষ্ট্রনেতারা একমঞ্চে একত্রিত হবেন। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শাসন ব্যবস্থা নিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে আলোচনা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে এই সম্মেলন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, ভারত এই আন্তর্জাতিক বৈঠকের প্রধান আয়োজক। সদস্য রাষ্ট্রগুলির পাশাপাশি বেশ কিছু সহযোগী ও আউটরিচ দেশগুলিকেও এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এবারের সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে ব্রাজিল, চিন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি— এই মোট ১১টি দেশ। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংকট এবং ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরশাহি পরিস্থিতি নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও, ভারত শুরু থেকেই গোষ্ঠীর ঐক্যমত ও কূটনীতির ওপর সর্বাধিক জোর দিয়েছে।
সম্মেলনের মূল এজেন্ডা হিসেবে শেরপা চ্যানেলের মাধ্যমে যৌথ বিবৃতির খসড়া তৈরির কাজ চলছে। ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, সংকট নিরসনে আলোচনা ও কূটনীতিই একমাত্র পথ। পাশাপাশি, সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা এবং জলপথে অবাধ ও বাধাহীন বাণিজ্য চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়গুলি চূড়ান্ত নথিতে প্রতিফলিত করতে চাইছে ভারত।
এই মেগা ইভেন্টকে কেন্দ্র করে দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানো হয়েছে। ভারত মণ্ডপম সহ রাজধানীর প্রথম সারির হোটেল এবং বিমানবন্দর চত্বরে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের জন্য মাল্টি-এজেন্সি সেন্টার (MAC) এবং ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স গ্রিড (NATGRID)-এর মতো আধুনিক পরিকাঠামো ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। ভারতের এক বছরব্যাপী ব্রিকস সভাপতিত্বের সফল সমাপ্তি ঘটাতে এই সম্মেলন এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে চলেছে।