“বাংলায় থাকতে হলে বন্দে মাতরম বলতে হবে!” রাখি পূর্ণিমায় যাদবপুর থেকে কোন বিস্ফোরক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

মাত্র নয় দিন আগে ছাত্র সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ভাঙচুর হয়েছিল প্রতিষ্ঠানের গর্বের প্রতীক। সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির রেশ কাটতে না কাটতেই রাখিবন্ধনের পবিত্র তিথিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের চত্বর মুড়ে গেল অন্য এক দৃশ্যে। যাদবপুর থানা থেকে সুকান্ত সেতুর মুখ পর্যন্ত বিশাল র‍্যাম্প জুড়ে একসঙ্গে দশ হাজার কণ্ঠে ধ্বনিত হলো ‘বন্দে মাতরম’। এই মহা অনুষ্ঠানের সূচনা করে সরাসরি ক্যাম্পাসের অন্দরের ‘থ্রেট কালচার’ চিরতরে খতম করার হুঙ্কার ছাড়লেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিনের এই দেশপ্রেমের জোয়ারে সামিল হতে বহু দূরদূরত্ব থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজির হয়েছিলেন সাধারণ মানুষ ও ছাত্রছাত্রীরা। মূল মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “রাখি পূর্ণিমায় দেশপ্রেমকে অটুট রাখতে ১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরমের আহ্বান জানিয়েছিলাম। সকলের একটাই লক্ষ্য ছিল এই পবিত্র মাটিতে দেশপ্রেম জাগ্রত করা।” এদিনের কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন স্বপন দাশগুপ্ত, তাপস রায়, কল্যাণ চক্রবর্তী, ইন্দ্রনীল খাঁর মতো হেভিওয়েট বিজেপি নেতারা। দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এদিন গোটা রাজ্যজুড়ে প্রায় চার হাজার আলাদা স্থানে রাখি উৎসব পালন করা হয়েছে।

তবে এদিনের গোটা অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু জুড়েই ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম আমল থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়েও এই বিশ্ববিদ্যালয় একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শের বলয়ে বন্দি রয়েছে। একে ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ গড়ার কথা বলা হলেও সেখানে জাতীয়তাবাদ ও দেশের সাংস্কৃতিক পরম্পরা চর্চার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। কলা বিভাগের দেওয়ালে ‘রেড স্যালুট কিষেণজি’ স্লোগান কিংবা কাশ্মীরকে নিয়ে বিতর্কিত আওয়াজ তোলার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পরও এ ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদী স্লোগান অত্যন্ত পীড়াদায়ক।

এবিভিপি কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-কে একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী। গেরুয়া রং নিয়ে চলা রাজনীতির তীব্র জবাব দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন যে স্বামী বিবেকানন্দের পরনেও গেরুয়া ছিল এবং মন্দিরের চূড়ায় গেরুয়া ধ্বজা ওড়ে। নতুন প্রজন্মকে দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

আগামী দিনের যুব সমাজের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুধু নিজেদের পরিবারের দায়িত্ব নিলেই হবে না, দেশকে শক্তিশালী করার দায়িত্বও তরুণ প্রজন্মকেই নিতে হবে। ইসরায়েলের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, সেখানে নাগরিকদের ন্যূনতম সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি স্কুল ও কলেজে এনসিসি (NCC) বাধ্যতামূলক করার জোরালো সওয়াল করে তিনি অভিযোগ তোলেন যে অতীতে এ রাজ্যে এনসিসি বন্ধ করে ‘জয়হিন্দ বাহিনী’ চালুর মতো ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সবমিলিয়ে, রাখির এই সাংস্কৃতিক কর্মসূচিকে মঞ্চ করে যাদবপুর থেকেই এক সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *