রোগা মানেই কি কোলেস্টেরল নিরাপদ? স্লিম মানুষদের জন্য রইল এক বড় সতর্কবার্তা

অনেকেরই অন্ধবিশ্বাস রয়েছে যে, যাঁরা রোগা বা ছিপছিপে গড়নের, তাঁদের শরীরে কখনই কোলেস্টেরল বাসা বাঁধতে পারে না। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। শরীরের ওজন পুরোপুরি স্বাভাবিক বা কম থাকলেও রক্তে খারাপ বা এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। তাই শুধু শরীরের ওজন দেখে নিশ্চিন্ত না থেকে, নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ওজন কম থাকলেও কেন বাড়ে কোলেস্টেরল?
কোলেস্টেরল বৃদ্ধির সঙ্গে কেবল অতিরিক্ত ওজন বা মেদের সরাসরি যোগ রয়েছে, এমনটা নয়। এর পেছনে আরও বেশ কিছু লুকনো কারণ কাজ করে:
বংশগত বা জেনেটিক কারণ: পরিবারে বাবা-মা বা নিকটাত্মীয়দের এই সমস্যা থাকলে, রোগা মানুষদেরও উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি থেকে যায়।
ভুল খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড, বাইরের ভাজাভুজি, প্যাকেটজাত চিপস, কেক, বিস্কুট এবং বেশি পরিমাণে মাখন-ঘি খাওয়ার ফলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ে।
ব্যায়ামের অভাব: স্লিম হলেও সারাদিন এক জায়গায় বসে কাজ করলে শরীরে ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল-এর মাত্রা কমে যায়।
অনিয়মিত জীবনযাপন: দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ (স্ট্রেস) এবং অপর্যাপ্ত ঘুম হৃদস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
কী কী মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়?
উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা নীরবে রক্তনালির ভেতরে ফ্যাট বা চর্বি জমা করতে শুরু করে। এর ফলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয় এবং ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, শরীরের ভেতরে এই ক্ষতি দীর্ঘদিন ধরে কোনো উপসর্গ ছাড়াই নীরবে চলতে থাকে।
সতর্ক হওয়ার লক্ষণগুলি কী কী?
হাই কোলেস্টেরলের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তবে মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে কিছু সংকেত দেখা দিতে পারে, যেমন—সামান্য হাঁটলে পায়ে ব্যথা বা টান ধরা, বুকে চাপ বা অস্বস্তি ভাব, সামান্য কাজেই ক্লান্ত হয়ে পড়া, শ্বাসকষ্ট হওয়া এবং চোখের পাতার চারপাশে হলদে রঙের চর্বির ছোট ছোট দাগ ফুটে ওঠা।
কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন?
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ থাকতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা শরীরচর্চা করা জরুরি। খাদ্যতালিকায় ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার, শাকসবজি, ফল এবং ডাল বেশি করে রাখুন। ট্রান্স ফ্যাট ও অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার বর্জন করুন, ধূমপান থেকে দূরে থাকুন এবং বছরে অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করিয়ে নিন। মনে রাখবেন, কেবল রোগা হওয়া মানেই কোলেস্টেরলের হাত থেকে সুরক্ষা নয়; সুস্বাস্থ্যের জন্য ওজনের পাশাপাশি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রার প্রতিও সমান নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।