‘শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি চলতে দেব না!’ যাদবপুরের অশান্তি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য মন্ত্রীর

রাজ্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর রাতে তৈরি হলো চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। এসএফআই-সহ একাধিক বাম ছাত্র সংগঠনের ডাকা একটি জেনারেল বডির মিটিংকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বচসা দ্রুত রক্তক্ষয়ী ও হাতাহাতির রূপ নেয়। খোদ ক্যাম্পাস চত্বরে এবিভিপি এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির এই সংঘর্ষকে ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র তর্জা শুরু হয়েছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে?
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এসএফআই-এর পক্ষ থেকে একটি জেনারেল বডির মিটিং ডাকা হয়েছিল। কিন্তু এই সভা ডাকার সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক এক্তিয়ার ও বৈধতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলে এবিভিপি। পরবর্তীতে এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে এবিভিপি সমর্থকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এবিভিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তাদের সমর্থকদের ওপর চড়াও হয় এসএফআই এবং অন্যান্য বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা। এমনকি তাদের উদ্দেশ্যে জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করারও গুরুতর অভিযোগ তুলেছে গেরুয়া শিবির।
অন্যদিকে, সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র তুলে ধরেছে বাম শিবির। তাদের দাবি, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের কিছু ছাত্র যখন নিজেদের মধ্যে সভা করছিল, তখন জোর করে সেখানে ঢুকে পড়ে এবিভিপির কর্মীরা। ক্যাম্পাসের মধ্যে ভাঙচুর চালিয়ে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ বামেদের।
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল
এই অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে বহুমুখী বিতর্ক। পুরো বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে একদল অতি বাম ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। আগের সরকারের মতো বর্তমান প্রশাসন শিক্ষাঙ্গনে এই ধরণের অরাজকতা বরদাস্ত করবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে উলটো সুর চড়িয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা। সব মিলিয়ে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাতের এই অশান্তি ও দুই ছাত্র শিবিরের মুখোমুখি অবস্থান ফের একবার ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা এবং শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।