মহিলাদের নিঃশব্দে গ্রাস করছে এই ঘাতক রোগ! অবহেলা করলেই বড় বিপদ, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা ও মানসিক চাপের জেরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা এখন ঘরে ঘরে দানা বাঁধছে। এর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনকে চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন ধরেই ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করে এসেছেন। তবে সাম্প্রতিক বেশ কিছু চিকিৎসাগত সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদের মধ্যেও এই সমস্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ গোড়ার দিকে এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ না পাওয়ায় অনেকেই বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, নারীদের শরীরের হরমোনগত পরিবর্তন এবং জীবনযাত্রার নানা অনিয়মের কারণে এই রোগটি আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। ডেইলি হান্টের পাঠকদের জন্য রইল মহিলাদের মধ্যে হাইপারটেনশনের এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি ও তার পেছনের কারণগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণ।

১. হরমোনের পরিবর্তন ও প্রজনন চক্রের প্রভাব
মহিলাদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে—যেমন গর্ভধারণ, মেনোপজ বা ঋতুবন্ধের সময় হরমোনের ওঠানামা ঘটে। বিশেষ করে মেনোপজের পর শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়, যা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

২. মানসিক চাপ ও বহুমুখী দায়িত্ব
পরিবার সামলানোর পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আধুনিক নারীরা প্রতিনিয়ত চরম মানসিক চাপের মুখে পড়ছেন। এই দীর্ঘমেয়াদী স্ট্রেস বা উদ্বেগ স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত রাখে, যা হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিয়ে রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত করে তোলে।

৩. জীবনযাত্রার ভুলভ্রান্তি ও খাদ্যাভ্যাস
শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, নিয়মিত কায়িক ব্যায়াম না করা এবং ফাস্টফুড বা অতিরিক্ত নুন খাওয়ার অভ্যাস রক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান অনুঘটক। এর ফলে শরীরে মেদ জমার পাশাপাশি রক্তনালীতে রক্ত চলাচলের পথ সংকুচিত হতে শুরু করে।

৪. লক্ষণহীন হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি
হাইপারটেনশনের প্রধান সমস্যা হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর কোনো প্রাথমিক উপসর্গ থাকে না। ফলে বহু মহিলা ঘুণাক্ষরেও টের পান না যে তাদের রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি রয়েছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা হলে এটি পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা কিডনি বিকল হওয়ার মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, বয়স ৩০ পেরোলেই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করানো এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে থাকা জরুরি। একটু সচেতনতাই এই নীরব ঘাতকের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে জীবন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *