গলায় বিষম লাগলে মাথায় ফুঁ বা জল দেওয়া বড় ভুল! প্রাণ বাঁচাতে তৎক্ষণাৎ কোন কাজগুলো করা উচিত জানেন?

খাওয়ার সময় তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বা অন্যমনস্ক থাকার কারণে গলায় বিষম খাওয়ার অভিজ্ঞতা কমবেশি আমাদের সকলেরই রয়েছে। গলা দিয়ে জল বা খাবার নামার সময় তা ভুল করে শ্বাসনালিতে চলে গেলেই এই বিপত্তি ঘটে। আর এই পরিস্থিতিতে আমাদের সমাজে বহু পুরনো কিছু অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে—যেমন রোগীর মাথায় ফুঁ দেওয়া, পিঠে সজোরে কিল মারা কিংবা সঙ্গে সঙ্গে জল খাইয়ে দেওয়া। চিকিৎসকদের মতে, এই সাধারণ ভুলগুলো রোগীর অবস্থাকে আরও মারাত্মক করে তুলতে পারে। তাহলে বিষম খেলে আসল করণীয় কী?
বিষম লাগলে কোন কাজগুলো ভুলেও করবেন না?
মাথায় জল ঢালা বা ফুঁ দেওয়া: বিষম লাগার সঙ্গে স্নায়ুর একটা সাময়িক ধাক্কা লাগে, যার সঙ্গে মাথার তালুতে জল দেওয়া বা ফুঁ দেওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক নেই। এটি কেবল সময়ের অপচয়।
সরাসরি জল খাইয়ে দেওয়া: শ্বাসনালিতে খাবার বা জল আটকে থাকা অবস্থায় জল গিলতে গেলে তা আরও গভীরে চলে গিয়ে দম আটকে যাওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পিঠে এলোপাথাড়ি কিল মারা: অনেকে আতঙ্কিত হয়ে রোগীর পিঠে সজোরে কিল মারতে শুরু করেন। এতে আটকে থাকা খাবার বা বস্তু আরও নিচে শ্বাসনালির ভেতরে ঢুকে আটকে যেতে পারে।
প্রাণ বাঁচাতে তৎক্ষণাৎ কী করা উচিত?
কাফিং বা কাশি দিন: যদি রোগী নিজে থেকেই কাশতে পারেন, তবে তাকে কাশতে দিন। কাশির প্রাকৃতিক ধাক্কায় শ্বাসনালিতে আটকে থাকা বস্তু বা তরল নিজে থেকেই বেরিয়ে আসার সুযোগ পায়।
সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া: রোগীকে সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিয়ে পিঠের ওপরের অংশে (দুটি কাঁধের মাঝখানে) হালকা কিন্তু দৃঢ়ভাবে হাতের তালু দিয়ে ৫ বার চাপড় দিন (Back Blows)।
হেইমলিক ম্যানুভার (Heimlich Maneuver): যদি রোগীর দম সম্পূর্ণ আটকে যায় এবং তিনি কথা বলতে বা কাশতে না পারেন, তবে দ্রুত রোগীর পেছন দিক থেকে জড়িয়ে ধরে নাভির ঠিক ওপরে শক্ত করে হাত রেখে ভেতরের দিকে ও ওপরের দিকে সজোরে ধাক্কা দিন। এই পদ্ধতিতে পেটের ভেতরের বায়ুর চাপে আটকে থাকা বস্তু ছিটকে বেরিয়ে আসে।
বিশেষ সতর্কতা: যদি উপরোক্ত উপায়েও রোগীর শ্বাসকষ্ট না কমে এবং মুখ নীল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সচেতনতাই পারে একটি বড় বিপদ থেকে জীবন বাঁচাতে।