আসল নাকি নকল রুপার গয়না কিনছেন? প্রতারণা থেকে বাঁচতে জেনে নিন ৫টি জাদুকরি উপায়

সোনার দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় বর্তমান সময়ে গয়নার বাজারে রুপার চাহিদা তুঙ্গে। শুধু সৌন্দর্য বাড়াতে নয়, অনেকের কাছেই এখন রুপা হয়ে উঠেছে দারুণ এক বিনিয়োগের মাধ্যম। স্টার্লিং সিলভার, অক্সিডাইজড কিংবা নানা ডিজাইনের রুপার অলংকার বাজারে সমাদৃত হলেও এর সঙ্গেই সমানতালে বাড়ছে ভেজাল ও নকল রুপার ব্যবসা। না জেনে বা যাচাই না করে কিনলে আসল ভেবে নকল রুপা বাড়িতে নিয়ে আসার ঝুঁকি থেকেই যায়।
অসাধু ব্যবসায়ীরা খরচের লোভ কমাতে অনেক সময় রুপার সঙ্গে ক্ষতিকর ক্যাডমিয়াম বা অন্য ধাতু মিশিয়ে দেয়, যা ত্বকের অ্যালার্জি থেকে শুরু করে কিডনি ও ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই কেনার আগে কয়েকটি সহজ ঘরোয়া উপায় জেনে রাখলেই প্রতারণার হাত থেকে সহজেই বাঁচতে পারবেন।
আসল রুপা চেনার সহজ উপায়গুলো:
‘৯২৫’ হলমার্ক পরীক্ষা: আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী স্টার্লিং সিলভারে থাকে ৯২৫ অংশ বিশুদ্ধ রুপা এবং ৭.৫ অংশ তামা। আসল গয়নায় সাধারণত ‘৯২৫’ বা ‘স্টার্লিং’ সিলমোহর বা খোদাই করা থাকে।
চুম্বক দিয়ে পরীক্ষা: রুপা কখনো চুম্বকের প্রতি আকৃষ্ট হয় না। একটি শক্তিশালী চুম্বক গয়নার কাছে ধরুন; যদি সেটি চুম্বকে শক্তভাবে লেগে যায়, তবে বুঝবেন সেটি আসল রুপা নয়।
বরফ দিয়ে পরীক্ষা: রুপা তাপের খুব ভালো পরিবাহক। গয়নার ওপর একটি বরফের টুকরো রেখে দিন। বরফ যদি খুব দ্রুত গলতে শুরু করে, তবে তা আসল রুপা হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
সাদা কাপড় দিয়ে ঘষে দেখা: একটি পরিষ্কার সাদা নরম কাপড় দিয়ে গয়নাটি ঘষলে যদি কাপড়ে হালকা কালচে দাগ পড়ে, তবে সেটি রুপার স্বাভাবিক অক্সিডেশনের লক্ষণ।
ওজন ও ফিনিশ: একই আকৃতির অন্য ধাতুর তুলনায় রুপা তুলনামূলক ভারী হয়। এছাড়া আসল রুপার উজ্জ্বলতা সবসময় মার্জিত ও প্রাকৃতিক হয়, অতিরিক্ত চকচকে কৃত্রিম ফিনিশ নয়।
কেনার সময় যে সতর্কতা জরুরি:
অস্বাভাবিক কম দামে স্টার্লিং সিলভারের গয়না বিক্রি হলে তা নিয়ে অবশ্যই সতর্ক হোন। সবসময় বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড বা পরিচিত জুয়েলারি শোরুম থেকে কেনাকাটা করুন, বিশুদ্ধতার সার্টিফিকেট চান এবং অবশ্যই পাকা রসিদ সংগ্রহ করুন। একটুখানি সচেতনতাই আপনাকে নকল পণ্য এবং বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে পারে!