বিয়ের কদিন আগেই তরুণী জিম ট্রেনারের রহস্যমৃত্যু! ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারে তোলপাড়

সামনেই আলোর উৎসব দীপাবলি। আর তার ঠিক পরেই বাড়িতে সানাই বাজার কথা ছিল। সেইমতো উৎসব এবং বিয়ের কেনাকাটা সারতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন এক তরুণী। কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। শেষ পর্যন্ত নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর একটি কোল্ড স্টোরেজের কাছ থেকে ওই তরুণীর রক্তাক্ত ও নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের কানপুরের মহারাজপুর এলাকায়।
নিহত ২৬ বছরের ওই তরুণীর নাম মান্তাশা কুমারী। পেশায় জিম ট্রেনার মান্তাশা একজন প্রফেশনাল বক্সারও ছিলেন। তাঁর বাড়ি উন্নাওয়ের গঙ্গা ঘাট কোতোয়ালি থানা এলাকায়।
কীভাবে ঘটেছিল ঘটনা? পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা নাগাদ দীপাবলি ও বিয়ের কেনাকাটা করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন মান্তাশা। তিনি তাঁর পরিবারকে জানিয়েছিলেন যে তিনি চাকেরির লাল বাংলা মার্কেট এলাকায় যাচ্ছেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও মেয়ে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজনের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এরপর সন্ধে ৭টা নাগাদ তাঁর মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। কোনো উপায় না পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই স্থানীয় থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি ও অভিযোগ দায়ের করে পরিবার।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ শুক্রবার মহারাজপুরের মাহোলি এলাকার একটি কোল্ড স্টোরেজের পাশ থেকে মান্তাশার দেহ উদ্ধার করে। শনিবার পরিবারের সদস্যরা মর্গে গিয়ে দেহ শনাক্ত করলে পুলিশ তা ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
কাঠগড়ায় প্রেমিক? নিখোঁজ ব্যাগ ও মোবাইল তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘটনাস্থল থেকে মান্তাশার বহুমূল্য ব্যাগ ও মোবাইল ফোনটি উধাও রয়েছে। সেগুলি উদ্ধারে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এই মৃত্যুর নেপথ্যে মান্তাশার প্রেমিকের হাত রয়েছে বলেই জোরালো সন্দেহ প্রকাশ করেছে তাঁর পরিবার।
তরুণীর বাবা জানিয়েছেন, একটি জিমে কাজ করার সুবাদে এক যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল মান্তাশার। দিনকয়েক আগে মান্তাশার একটি শারীরিক অস্ত্রোপচার হওয়ায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেই সময় ওই যুবক হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে দেখা করতেও গিয়েছিল। মেয়ের মৃত্যুর পেছনে ওই যুবকেরই হাত রয়েছে বলে দাবি পরিবারের। যদিও অভিযুক্ত যুবকের আসল পরিচয় এখনও প্রকাশ করেনি পুলিশ। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে।
বক্সিংয়ে ছিল অসামান্য প্রতিভা মৃত মান্তাশা কুমারী শুধু একজন জিম ট্রেনারই ছিলেন না, বক্সিং রিংয়েও তাঁর সুনাম ছিল। দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি তাঁর বাবার কাছেই প্রফেশনাল বক্সিংয়ের তালিম নেন। এমনকি জেলা স্তরের প্রতিযোগিতায় তিনি স্বর্ণপদকও অর্জন করেছিলেন। উল্লেখ্য, মান্তাশার বাবাও অতীতে একজন পেশাদার বক্সার ছিলেন এবং তিনিও জেলাস্তরে সোনা জিতেছিলেন। এমন এক প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদের রহস্যমৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয় স্তরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।