“বুকস্টলে কেউ বই পড়ে না, বাংলাদেশে চলে যাক!” হঠাৎ কেন বামেদের ওপর এমন তেড়ে উঠলেন দিলীপ ঘোষ?

মুর্শিদাবাদে গিয়ে ফের বামপন্থীদের তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বামেদের বুকস্টল ভাঙচুরের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। সেই সমস্ত ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সরব হয়েছিল বাম নেতৃত্ব। তবে এবার সেই বিতর্কিত প্রসঙ্গ টেনে এনেই বামেদের একহাত নিলেন দিলীপ। তাঁর স্পষ্ট দাবি, বামেদের বুকস্টলে আদতে কেউ বইই পড়ে না। এমনকী, বামপন্থী নেতারা নিজেরাও কোনো দিন বই পড়েন না বলে কটাক্ষ করেন তিনি। এই বিতর্কের মাঝে বামেদের একবারে দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে চলে যাওয়ার বিস্ফোরক পরামর্শও দিয়েছেন বর্ষীয়ান এই নেতা।
মুর্শিদাবাদের একটি অনুষ্ঠান থেকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “বামেদের বুকস্টলে কেউ কোনদিন বাধা দেয়নি। ওরা আসলে নিজেরা ঝামেলা ও গন্ডগোল সৃষ্টি করে খবরে আসার সস্তা চেষ্টা করছে। এই যে এত কথা বলা হচ্ছে, বামপন্থীদের বুকস্টলে গিয়ে কে বই পড়ে? ওরা নিজেদের বুকস্টলের বই নিজেরাও কোনোদিন পড়ে না, সাধারণ মানুষও পড়ে না। এভাবে জায়গায় জায়গায় মিউজিয়াম বানিয়ে রেখে শেষ পর্যন্ত কী লাভ হবে?” নিজের পুরনো অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “আমার স্পষ্ট মনে আছে, বিগত ৪০ থেকে ৪৫ বছর ধরে আমি রাষ্ট্রীয় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। আমাদের সময়ে জাতীয়তাবাদী বুকস্টল করতে গেলে এরা একটা বাঁশ পর্যন্ত পুঁততে দিত না। কোনোদিন একটা স্টল আমাদের করতে দেওয়া হয়নি। আর আজ তারাই নাকি গণতন্ত্রের বড় বড় কথা বলছে।”
বামেদের সমর্থনকারী বুদ্ধিজীবীদেরও কড়া ভাষায় বিঁধেছেন দিলীপ। তাঁর অভিযোগ, “কিছু তথাকথিত অতি-প্রগতিশীল হালকা রঙের লাল বুদ্ধিজীবী এখন ওদের সমর্থন ছড়াচ্ছেন।” ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপি নেতা প্রশ্ন তোলেন, “যখন সারা দুনিয়ার মানুষ বামপন্থী মতাদর্শকে আক্ষরিক অর্থেই ছুড়ে ফেলে দিয়েছে, তখন এ দেশে কেন ওদের মিউজিয়ামে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে? ওদের প্রতি আমাদের বিন্দুমাত্র মায়া-মমতা নেই। সারা পৃথিবীর মানুষ ওদের উপড়ে ফেলে দিয়েছে, আমরাই বা কেন ওদের মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করে রাখব?” এর পরই চরম কটাক্ষের সুরে দিলীপ যোগ করেন, “যেখানে ওদের জায়গা আছে, ওরা সোজা বাংলাদেশে চলে যাক।”
দিলীপ ঘোষের এই বিতর্কিত ও শোরগোল ফেলা মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। বাম নেতৃত্বের দাবি, দিলীপ ঘোষের এই ধরনের অশালীন মন্তব্য তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনাই প্রকাশ করে। তবে দিলীপ তাঁর বক্তব্যে অনড় থেকেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, আগামী দিনেও বিরোধী শিবিরের প্রতি তাঁর আক্রমণের ঝাঁঝ কমছে না।