৩ মিনিটে পৌঁছাল পুলিশ, তাও আটকাল না গণহত্যা! রক্তস্নাত ইউরোপের জনপ্রিয় শহর

ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় ও শান্ত পর্যটন শহর পোল্যান্ডের ক্রাকভ রক্তে ভেসে গেল এক তরুণ বন্দুকবাজের নারকীয় তাণ্ডবে। শনিবার বিকেলে শহরের ঐতিহাসিক মেন মার্কেট স্কোয়্যারে হঠাৎই এক সশস্ত্র ব্যক্তি এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয় এবং অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হন। তবে ঘটনার রেশ এখানেই শেষ হয়নি। অভিযুক্তের বাড়ি থেকে পাওয়া গিয়েছে তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্যের রক্তাক্ত দেহ। ফলে এই হামলায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে।

৩ মিনিটে পৌঁছায় পুলিশ, পাল্টা গুলিতে উদ্ধার হামলাকারী খবর পাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশের বিশেষ টিম। অভিযুক্তকে আটক করতে গেলে সে পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করেও সরাসরি গুলি চালাতে থাকে। এতে দুই পুলিশকর্মী জখম হন, যাঁদের মধ্যে এক জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। পাল্টা গুলিতে জখম হলে শেষপর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয় পুলিশ। বর্তমানে তাকে পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সামরিক পোশাক, কার্তুজের পাহাড় ও ঘরে তিন লাশ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৪ বছর বয়সী ওই বন্দুকধারী পোল্যান্ডেরই নাগরিক। হামলার সময় তার পরনে ছিল মিলিটারি পোশাক এবং বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট। ঘটনাস্থলে রাখা তার গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও কার্তুজের পাহাড় উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। শকিং বিষয় হলো, অভিযুক্ত তরুণটির কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার বৈধ লাইসেন্সও ছিল।

ক্রাকভ শহর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে ওস্ত্রোভিয়েক শভিয়েন্তোকশিস্কি শহরে অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে চোখ ছানাবড়া হয়ে যায় পুলিশের। সেখানে দু’জন মহিলা ও একজন পুরুষের নিথর দেহ উদ্ধার হয়। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন, তাঁরা অভিযুক্তের নিকটাত্মীয় হতে পারেন। ওই বাড়িতে আরও বিস্ফোরক বা অস্ত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ড্রোনের সাহায্যে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

চরম দক্ষিণপন্থী যোগ ও দু’দিনের জাতীয় শোক হামলার মূল উদ্দেশ্য এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারচিন কিয়েরভিনস্কি দাবি করেছেন, অভিযুক্ত তরুণ চরম দক্ষিণপন্থী উগ্র মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েই এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পেছনে আন্তর্জাতিক কোনো জঙ্গি নেটওয়ার্ক বা ছক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে পোল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা ও কাউন্টার টেররিজম স্কোয়াড।

এমন ভয়াবহ গণহত্যার পর ৮ ও ৯ নভেম্বর দু’দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশনীতি বিষয়ক প্রধান কাজ়া কালাস এই হামলার তীব্র নিন্দা ও সমবেদনা জানিয়েছেন। দেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র ও ঐতিহাসিক স্থানে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *