দীপাবলীতে মা লক্ষ্মীর পুজোর পর পুরোনো মাটির প্রদীপ কী করবেন? জানুন শাস্ত্রের এই গোপন নিয়ম!

साल ২০২৬-এর কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথি ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে উৎসবের প্রস্তুতি। অন্ধকার দূর করে আলোর উৎসবে মেতে ওঠার এই দিনটিতে ঘর সাজাতে আমরা অনেকেই নানা রকমের প্রদীপ ব্যবহার করি। তবে দীপাবলির পর এই প্রদীপগুলো নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে যে, পুরনো বা ব্যবহৃত প্রদীপগুলোর ঠিক কী করা উচিত? জ্যোতিষশাস্ত্র এবং ধর্মীয় নীতি অনুসারে, এই বিষয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
পুরোনো মাটির প্রদীপ কি পুনরায় ব্যবহার করা যায়?
দীপাবলির রাতে মা লক্ষ্মীর আরাধনায় হাজার হাজার প্রদীপের আলোয় সেজে ওঠে চারপাশ। তবে পূজার পর এই ব্যবহৃত মাটির প্রদীপগুলো আর দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত। শাস্ত্র মতে, পুজোর সময় ব্যবহৃত মাটির প্রদীপগুলো ঘরের সমস্ত নেতিবাচক শক্তি ও অশুভ প্রভাবকে নিজের মধ্যে শুষে নেয়। ফলে সেই প্রদীপগুলো পুনরায় ব্যবহার করলে ইতিবাচক শক্তির পরিবর্তে ঘরে নেতিবাচক প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিজের ও পরিবারের সুখ-শান্তি বজায় রাখতে পুরোনো প্রদীপ পুনরায় ব্যবহার না করার নিয়মটি মেনে চলা উচিত।
ধাতব প্রদীপ পরিষ্কারের নিয়ম
মাটির প্রদীপের ক্ষেত্রে নিয়ম কড়া হলেও পিতল বা রূপার মতো ধাতব প্রদীপের ক্ষেত্রে নিয়ম সম্পূর্ণ আলাদা। এই ধরনের বহুমূল্য ধাতব বস্তু সহজে নষ্ট হয় না এবং এগুলিকে জলে ও পরিষ্কার সামগ্রী দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে সহজেই পবিত্র করা সম্ভব। পূজার পর পিতল বা রূপার প্রদীপ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিলে এর পবিত্রতা ফিরে আসে। পরবর্তী যে কোনো শুভ অনুষ্ঠানে বা আগামী বছরের দীপাবলিতে এই ধাতব প্রদীপগুলো আপনারা কোনো সংকোচ ছাড়াই অনায়াসে ব্যবহার করতে পারেন। ধাতুর তৈরি এই সামগ্রীগুলোর সঠিক যত্ন নিলে ঘরে সুখ-সমৃদ্ধি ও বরকত বজায় থাকে।
পুরোনো ও খণ্ডিত প্রদীপ বিসর্জনের সঠিক নিয়ম
পুজো শেষ হওয়ার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে যে, এই ব্যবহৃত এবং সামান্য খণ্ডিত প্রদীপগুলো কোথায় বা কীভাবে ফেলা উচিত। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, ব্যবহৃত বা সামান্য ভেঙে যাওয়া প্রদীপগুলো কোনো পবিত্র গাছের নিচে রেখে আসা উচিত।
গাছের গোড়ায় প্রদীপগুলো রাখলে যেমন সেগুলোর অমর্যাদা হয় না, তেমনই এটি একটি নিরাপদ স্থান হিসেবেও বিবেচিত হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গাছের কাছে প্রদীপগুলো রেখে দিলে ঘরের জমে থাকা সমস্ত নেতিবাচক শক্তিও বাইরে চলে যায়। প্রাচীন এই সহজ ও ঐতিহ্যবাহী নিয়মগুলো মেনে চললে জীবন অনেক সহজ ও আনন্দময় হয়ে ওঠে, পাশাপাশি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও সুরক্ষিত থাকে।